১২ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ১৬:৪৩
দফায় দফায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা ধ্বসে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো মাসুম বিল্লাহকে বদলি করা হয়েছে।
সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো মাসুম বিল্লাহকে বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদিন।
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় মাসুম বিল্লাহকে বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
কয়েক দফায় প্রাণহানি আর প্রশাসনের অভিযানের পরও শাহ আরেফিন টিলা থেকে বন্ধ হচ্ছে না পাথর উত্তোলন। গত ২৩ জানুয়ারি শাহ আরেফিন টিলা ধ্বসে পাঁচ শ্রমিক মারা যান বলে নিশ্চিত করে পুলিশ। যদিও স্থানীয়দের দাবি, সেদিন মারা যান ৮ জন। শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে টিলা কেটে পাথর উত্তোলনকালে মাটি চাপা পড়ে আনিছ (৩৬) নামে এক শ্রমিক মারা যান। এতে আহত হন আরো দুই শ্রমিক। বিকেলে এ ঘটনায় আব্দুল কাদের নামের এক পাথর ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ।
টিলা ধ্বসে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় ‘গাফিলতির’ দায়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বায়েস আলমকে গতকাল শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রত্যাহার করা হয়।
২৩ জানুয়ারির ঘটনা তদন্তে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা হাকিম (এডিএম) আবু সাফায়াৎ মুহম্মদ শাহেদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) আবুল হাসনাতকে প্রধান করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে হয়। দুটি কমিটিই তদন্তে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসন ও পুলিশের গাফিলতির প্রমাণ পায়। এডিএম ৩ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে ও এএসপি ৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সুপারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে শাহ আরেফিন টিলা ধ্বংসে ইজারাদারসহ ৪৭ ভূমিখেকোকে চিহ্নিত করা হয়। আর জেলা পুলিশের তদন্তে কোম্পানীগঞ্জের ওসিকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়। এই তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে শনিবার ওসি বায়েস আলমকে প্রত্যাহার ও আজ (১২ ফেব্রুয়ারি) কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো মাসুম বিল্লাহকে বদলি করা হয়।
আপনার মন্তব্য