নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ২০:০১

এলাকাবাসীর দাবি ছিলো মিনি পার্ক, রেস্ট হাউস বানাচ্ছে সিসিক

প্রায় তিন যুগ পর গত বছরের আগস্টে সিলেট নগরীর দাড়িয়াপাড়ায় বেদখলে থাকা ৮ শতাংশ জমি উদ্ধার করে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। একসময় পুকুর থাকা এই জমিতে মিনিপার্ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছিলেন এলাকাবাসী। তবে এই দাবি না মেনে ওই জমিতে রেস্ট হাউস নির্মাণ করছে সিসিক। গত সোমবার থেকে এই রেস্ট হাউস নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দাড়িয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, রেস্ট হাউস নির্মাণ করতে গিয়ে কোনো অনুমতি না নিয়েই গাছ কাটছে সিসিক।

তবে সিসিক কর্তৃপক্ষের দাবি, মাত্র ৮শতক জমিতে মিনি পার্ক নির্মাণ সম্ভব নয়। তাছাড়া দীর্ঘকাল বেদখলে থাকা এই জমিটি পুণরায় দখল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই দ্রুত রেস্ট হাউস নির্মাণ করা হচ্ছে।

বুধবার সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সিসিকের রেস্ট হাউস নির্মাণ কাজ চলছে। ভবন নির্মাণের জন্য কেটে ফেলা হয়েছে কয়েকটি গাছ। ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একতলার এই রেস্ট হাউস নির্মিত হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিস্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাড়িয়াপাড়া এলাকায় ৬০ শতক জমি ছিলো স্থানীয় এক জমিদারের। ওই জমিদার পুকুর ছাড়া বাকি সব জমি বিক্রি করে দেন। এলাকাবাসীর সুবিধার্থে ৮ শতক জমির উপরের পুকুরটি উন্মুক্ত রেখে দেন তিনি।

পরে সিলেট পৌরসভা ওই পুকুরটির মালিকানা নেয়। এসএ রেকর্ডেও সিলেট পৌরসভা (বর্তমানে সিটি করপোরেশন) এই জমির মালিক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। তবে একপর্যায়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা এই পুকুর দখলের পর ভরাট করে স্থাপনা নির্মান করে।

২০০৭ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মেয়র আযম খান বাদী হয়ে এ নিয়ে সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব মামলা দায়ের করেন। যাতে বিবাদী করা হয় হায়দর বখত চৌধুরীসহ ৯ জনকে।

এর প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ২২ মে সিটি করপোরেশনের অনুকুলে রায় দেন আদালত। এরপর ১৭ আগস্ট প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের এই জমি দখলে নেয় সিসিক।

এই এলাকার বাসিন্দা আলমগীর কুমকুম সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দাড়িয়াপাড়া নগরীর একটি বৃহৎ আবাসিক এলাকা। কিন্তু এখানে শিশুদের খেলোধুলা ও বয়স্কদের একটু হাঁটাচলার জন্য কোনো খোলা জায়গা নেই। আমরা তাই উদ্ধারকৃত জমিতে একটি মিনি পার্ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছিলাম। যেখানে বাচ্চাদের কিছু খেলাধুলার জিনিসপত্র, বয়স্কদের হাঁটার ব্যবস্থা ও একটি ছোট্ট পাঠাগার থাকবে। বিদেশে এমন অনেক মিনি পার্ক আছে।

তিনি বলেন, আমরা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ ব্যাপারে লিখিত আবেদন করলে তিনি আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু দুদিন আগে হঠাৎ করেই দেখি আমাদের না জানিয়ে ওই জায়গায় নির্মাণ কাজ শুরু করে দিয়েছে সিসিক। স্থাপনা নির্মাণের আগে সবগুলো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে সিসিকের ২ নং ওয়ার্ডের (দাড়িয়াপাড়া এলাকা) কাউন্সিলর রাজিক মিয়া সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এলাকাবাসী আমার কাছেও ওই স্থানে মিনি পার্ক নির্মাণের দাবি করেছিলেন। আমি তাদের দাবির সাথে একমত। এই এলাকায় কোনো উন্মুক্ত স্থান নেই। ফলে এটি উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন ছিলো।

তিনি বলেন, আমি এলাকার জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও আমার সাথে কোনো আলোচনা না করেই স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করে দিয়েছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, এলাকাবাসী পার্ক নির্মাণের দাবি করেছিলেন কিন্তু এতো ছোট জায়গায় তা সম্ভব নয়। এছাড়া পুকুর থাকা অবস্থায় এই জায়গাটি দখল হয়ে গিয়েছিলো। দীর্ঘদিন পর আমরা আদালতের রায়ে উদ্ধার করেছি। এখন উন্মুক্ত ফেলে রাখলে আবার দখল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। তাই কিছুটা দ্রুততার সাথেই রেস্ট হাউস নির্মাণ করা হচ্ছে। তাছাড়া সিসিকের কোনো রেস্ট হাউসও নেই।

তিনি বলেন, রায় পাওয়ার পর গত বছরের অক্টোবরে সিটি করপোরেশনের স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে রেস্ট হাউস নির্মানের সিদ্ধান্ত হয়। নভেম্বরে টেন্ডার হয়। এরপর যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে এখন কাজ শুরু করা হয়েছে।

গাছ কাটার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই জায়গার উপরে একটি বড় গাছ ও কয়েকটি ছোট গাছ কাটা হয়েছে। আমরা রেস্ট হাউস নির্মাণের পর তার চারপাশে আবার বৃক্ষরোপন করবো। তবে দুয়েকটি গাছ কাটার ব্যাপারে কারো অনুমতি প্রয়োজন হয়না বলে জানান সিসিকের সিইও।

তবে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আরএসএম মুনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গাছ কাটার জন্য বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। সেটি যে কোন কর্তৃপক্ষ হোক, তাদেরকে যথাযথ অনুমতি নিতে হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত