১৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ২১:৩০
সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দুদকের কর্মকর্তাদের উপর হামলা ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম)কে আসামী করে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আদালতের নির্দেশে এ মামলা হয় বলে জানান কতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুহেল আহাম্মদ।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক কর্মচারীকে ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হন দুদক কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় ওই রাতে দুদক সিলেট কার্যালয়ের পরিচালক শিরিন পারভীন কতোয়ালি থানায় হাজির হয়ে মামলা করতে চাইলে পুলিশ তা সাধারণ ডায়রি হিসেবে গ্রহণ করে।
আজ (বৃহস্পতিবার) সিলেট মূখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম সাইফুজ্জামান হিরু এই সাধারণ ডায়রি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণের আদেশ দেন।
আদালতের আদেশ পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সাধারণ ডায়রিটি মামলা হিসেবে রুজু হয় বলে জানান ওসি সুহেল।
তিনি বলেন, জিডিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বাণিজ্য উচ্চমান সহকারী আজিজুর রহমান ছাড়া আর কারো নাম উল্লেখ নেই। তবে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও তাঁর অধীনস্থ একজন ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারীদের হামলা ও সরকারী কাজে বাধা দানের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। ফলে তাদের তাদের মামলায় আসামী করা হবে।
সিলেটের বর্তমান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম)-এর দায়িত্বে আছেন আবু সাফায়াৎ মুহম্মদ শাহেদুল ইসলাম।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারী আজিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার হন দুদক কর্মকর্তারা। এতে দুদকের কয়েকজন সদস্য আহত হন। এসময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অন্য কর্মচারীদের বাধার মুখে আজিজুরকে আটক করেও নিয়ে যেতে পারেনি দুদক। পরে সোমবার ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে দুদক। ওইদিনই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। হামলার ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান করে একটি কমিটিও গঠন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়।
মঙ্গলবার আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে কতোয়ালি থানায় মামলা করেন দুদক সিলেট কার্যালয়ের উপ সহকারী পরিচালক ওহায়েদ মঞ্জু সোহাগ। ওই কর্মচারীকে ঘুষসহ হাতেনাতে আটক করা হয়েছিলো বলে দাবি করেছিলো দুদক।
দুদকের কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুদক, সিলেট কার্যালয়ের পরিচালক শারমিন পারভীনের নেতৃত্বে ৯ ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এসময় ঘুষের টাকা লেনদেনের সময় ওই কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী আজিজুর রহমানকে আটক করে দুদক। তাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অন্য কর্মচারীরা জড়ো হয়ে বাধা দেন। এসময় দুই পক্ষের বাকবিতন্ডা লেগে যায়। পরে জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন নিজ কক্ষে দুদকের কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠক চলাকালীন সময়েই জেলা প্রশাসকের কক্ষের বাইরে দুদকের সদস্যের উপর হামলা হয় বলে জানিয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বাগবাড়ির বাসিন্দা অকিল চন্দ্র সূত্র ধর পায়েল এন্টারপ্রাইজ পেট্রল পাম্প স্থানান্তরের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ব্যবসা বাণিজ্য শাখায় আবেদন করেন। এজন্য ডিসি অফিসের কর্মচারী আজিজুল ইসলামের সঙ্গে ২০ হাজার টাকায় চুক্তি করেন।
ফাইল ছাড়িয়ে নিতে ৯ ফেব্রুয়ারি বিকালে টাকা লেনদেনের সময় ডিসির কার্যালয়ে দুদক অভিযান চালিয়ে আজিজুল ইসলামকে আটক করে।
আপনার মন্তব্য