নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ২২:০২

দুই শ্রমিককে আটক নিয়ে তুলকালাম : ডিবি পুলিশ অফিসে হামলা, সংঘর্ষ

দুই ট্রাক শ্রমিককে আটক নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে নগরীর উপশহর এলাকায়। দু'জনকে আটকের জেরে শুক্রবার রাতে উপশহরে হামলা, সংঘর্ষ, ভাংচুর ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে কয়েকজন আহতের খবর পাওয়া গেছে।

পুলিশের দাবি, শুক্রবার সন্ধ্যায় মহাজনপট্টি থেকে মাদকসহ দুই ট্রাক শ্রমিককে আটক করা হয়। পরে ১০/১২ জন শ্রমিক মিলে উপশহরে ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে হামলা চালায়।

তবে শ্রমিকদের দাবি, দু'জনকে আটকের বিষয়টি জানতে তারা ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে হাজির হলে তাদের কাছে ঘুষ চাওয়া হয় এবং মারধর করা হয়। পরে উপশহর শাহজালাল সেতু সংলগ্ন এলাকায় এসেও ট্রাক ও মাইক্রোবাস শ্রমিকদের মারধর করে গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় কয়েকটি গাড়িও ভাংচুর করে তারা।

উপশহর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাত সাড়ে ৮ টার দিকে উপশহর রোজভিউ হোটেলের সামনে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় গুলির শব্দ শুনতে পান বলেও জানান তারা। সংঘর্ষকালে ১০/১২ টি ট্রাক ও মাইক্রোবাস ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের পর সোবহানীঘাট থেকে শাহজালাল সেতু পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখে শ্রমিকরা। এসময় ব্যস্ত এই সড়কে দীর্ঘ যানজট লেগে আছে। পরে রাত ১০টার দিকে পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতারা আশ্বাস দিলে ট্রাক শ্রমিকদের একটি পক্ষ অবরোধ তুলে নেয়। তবে আরেক পক্ষ, আটককৃত শ্রমিকদের মুক্তি না দিলে অবরোধ চালিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

ঘটনাস্থল থেকে জসিম উদ্দিন নামে এক ট্রাক শ্রমিক জানান, সন্ধ্যায় নগরীর মহাজনপট্টি থেকে তোরন মিয়া ও শাহিন আহমদ নামে দুই ট্রাক শ্রমিককে ধরে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ।

তিনি বলেন, আটকের পেয়ে ৮/১০ জন ট্রাক শ্রমিক উপশহরে ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে গিয়ে তোরন মিয়ার মুক্তি দাবি করলে আমাদের মারধর করা হয়।

তিনি বলেন, পরে উপশহরে রোজভিউ হোটেলের সামনে এসে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করলে তাদেরও মারধর করে পুলিশ। এসময় কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে পুলিশ।

আক্তার হোসেন নামে এক পিক-আপ চালক বলেন, আমরা ডিবি অফিসে গিয়ে অন্যদের আটকের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ জানায়, তাদের মাদকসহ আটক করা হয়েছে।

আক্তার বলেন, তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য ১২ হাজার টাকা দাবি করে পুলিশ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিক্ষোভ করলে পুলিশ আমাদের মারধর করে। পরে উপশহরে শাহজালাল সেতুর পাশে এসে ডিবি পুলিশ শ্রমিকদের মারধর ও গাড়ি ভাংচুর করে। এতে কয়েকজন আহত হন।

এ ব্যাপারে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার শামীম আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রোকন উদ্দিন বলেন, দুজনকে আটকের জেরে ট্রাক শ্রমিকরা ডিবি পুলিশের অফিসে হামলা করেছিলো। এ নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।

ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেটের সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের আশ্বাসে আমরা ১০টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করেছি।

তবে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেটের সাবেক সভাপতি আবু সরকার বলেছেন, আমাদের দুজন শ্রমিককে পুলিশ অন্যায়ভাবে আটক করেছে। তারপর ঘুষ দাবি করেছে। তাদের মুক্তি প্রদান না করলে আমরা অবরোধ প্রত্যাহার করবো না।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত