২৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ০১:০২
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের ঘিলাতলী গ্রামে মা ও শিশুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হওয়ার পর থেকে স্বামী ও শাশুরির দেখা মিলছে না।
পুলিশ ময়না তদন্ত শেষে মিলি ও তার ছেলে পথিকের লাশ মিলির বাবার নিকট হস্তান্তর করেছে। মঙ্গলবার মৌলভীবাজার জেলার কাশিপুর গ্রামের তাদের শেষ কৃর্ত অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে ঘিলাতলী গ্রামের পিন্টু দেবের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সুনসান নিরবতা। পিন্টু কাকাদের ঘরের ভিতরে মহিলারা বসে রয়েছেন। পিন্টুর ঘরে তালা ঝুলছে। সাংবাদিক পরিচয় দিতেই এগিয়ে আসে কয়েকজন।
পিন্টুর ভাইয়ের স্ত্রী রিক্তা দেব জানান, ঘটনার দিন তার দেবর পিন্টু ও তার মা বাড়িতে ছিল। কিন্তু দুপুরের পর থেকেই তারা নিখোঁজ। ঘরে তালা লাগিয়েছে কে জানতে চাইলে তিনি তালা লাগিয়েছেন বলে জানিয়েছে।
পিন্টুর কাকাত ভাই পলাশ দেব জানান, তিনি মনতলা বাজারে ক্রোকারিজের ব্যবসা করেন । ঘটনার দিন তিনি বাড়ির পাশে জমিতে কৃষি কাজ করছিলেন। খবর পেয়ে বাড়িতে এসে দেখতে পান মিলি ও তার ছেলে পথিকের লাশ তীরের সঙ্গে ঝুলছে। খবর পেয়ে তার ভাই পিন্টু বাড়িতে এসে এ দৃশ্য দেখে অজ্ঞান হয়ে যান। পরে তাকে পানি ঢেলে জ্ঞান ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু ওইদিন বিকেলে থেকে পিন্টু কে আর তিনি বাড়িতে দেখেন নি। মিলি ও তার ছেলের পথিকের মৃত্যু নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ পিন্টুর পুরো স্বজনরা। কিন্তু মুখ বন্ধ নেই মিলির বোন মাপ্পি দেব’র।
তিনি মুঠোফোনে জানান, পিন্টুর বিয়ের সময় তাদের বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এ টাকা দিয়ে ঘরের খাট, আলমারি সহ যাবতীয় জিনিস বানানোর কথা ছিল। কিন্তু ছোট একটি খাট বানিয়ে পুরো টাকা মিলির শ্বাশুরি তার মেয়ে কে দিয়ে দেন। এ নিয়ে মিলি কথা বললেই তার শাশুরি তাকে মানসিক ভাবে নির্যাতন করতেন।
অপরদিকে পিন্টু বিয়ের পর ভাল মানুষ সেজে ছিল। কিন্তু সে মাদক সেবন করত। তাকে মাদক সেবন বন্ধ করতে মিলি চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু পিন্টু মাদক সেবন বন্ধ করেনি। পিন্টু কে সে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করতো।
তিনি বলেন, মিলির কাছে যে মোবাইল ফোনটি ছিল তাতে মিলিকে অত্যাচারের বিভিন্ন রেকর্ড ছিল। কিন্তু ঘটনার পর থেকে মিলির সেল ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে না।
মিলির ঝা রিক্তা বলেন, পিন্টুকে কখনো তারা মাদক সেবন করতে দেখেন নি। ঘটনার পর থেকে পিন্টু আড়ালে কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন হয়ত পুলিশের ভয়ে বাড়ির বাইরে আছে। মিলির সেলফোনটি কোথায় আছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার পর তিনিও সেল ফোনটি অনেক খোজেছেন কিন্তু তা তিনি দেখতে পাননি।
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, মিলি ও তার সন্তান পথিকের লাশ মিলির বাবার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ মামলা করেনি। মিলির ব্যবহৃত সেল ফোনটির সন্ধান করছে পুলিশ।
আপনার মন্তব্য