হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

২৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ১৮:৫৭

হবিগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন সম্পন্ন

শিশুকাল থেকে গণতন্ত্রের চর্চা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া সহ কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করতে সারাদেশের মতো হবিগঞ্জের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জ জেলার ৮টি উপজেলায় ৭৩২টি সরকারি ও সদ্য জাতীয়করণকৃত ২৯৪টি বিদ্যালয়ে স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হবে ৭ হাজার ১ শ' ৮২ জন স্টুডেন্ট কাউন্সিল মেম্বার।

বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) হবিগঞ্জ শহর ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার কয়েকটি স্কুল ঘুরে দেখা যায়, উৎসবমূখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন। প্রত্যেকটি স্কুলেই ছিল ভোটের আমেজ।

শহরের কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষন করতে আসা সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু জাফর মোঃ সালেহ বলেন, স্কুলজীবন থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চার অভ্যাসসহ সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য ও মূল্যবোধ অর্জনের লক্ষ্যে সারা দেশের ন্যায় হবিগঞ্জ জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনী এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন শিক্ষার্থীরাই। তবে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখতে পেলাম, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও এ নির্বাচন নিয়ে বেশ উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

বাহুবল উপজেলার ৪নং বাহুবল ইউনিয়নের ফয়েজাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, রিটার্নিং কর্মকর্তা, পোলিং অফিসার ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা ভোট গ্রহণে মহাব্যস্ত। নির্বাচনের দায়িত্বে যারা আছে, তারা সবাই ওই স্কুলের শিক্ষার্থী।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র আরিফ মিয়া জানায়, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্নভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ১টা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ। আমাদের বিদ্যালয়ে ভোটার সংখ্যা ১২৫। ৭টি পদে জয়ী হওয়ার জন্য ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

ফয়েজাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এএনএম আল এমরান বলেন, শিশুকাল থেকে গোপন ভোট দেয়ার অভিজ্ঞতা ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষৎ জীবন গড়ার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। শুধু তাই নয়, প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগে শিশুদের এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া তাদের রাজনীতিতে আসা এবং গণতন্ত্র চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে আগ্রহী করবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন দেশের গণতন্ত্র চর্চায় ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরো বলেন, এ নির্বাচনের যাবতীয় কাজ শিক্ষার্থীরাই করেছে। আমরা শুধু তাদের সহযোগিতা করেছি। আমার সাথে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন এ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিথীকা সরকার, মনিকা দেব জেনী ও রেখা রানী দেব।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে সারাদেশের ১৯টি জেলার ২০টি উপজেলার ১০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচনের পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন স্থানীয় জনসাধারণ, ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকদের মাঝে বিপুল আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টি করলে ২০১৩ সাল থেকে সারাদেশের সকল উপজেলা/থানার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন কার্যক্রম শুরু হয়। স্টুডেন্ট কাউন্সিল কর্মপরিধির মধ্যে আছে, পরিবেশ সংরক্ষণ, পুস্তক ও শিখন সামগ্রী বিতরণ, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, পানিসম্পদ, বৃক্ষরোপণ ও বাগান তৈরি এবং অভ্যর্থনা ও আপ্যায়ন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত