নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ২০:২৩

ছেলে ‘অসুস্থ’, পেছালো রাগীব আলীর প্রতারণা মামলার রায়

ছেলে আব্দুল হাই অসুস্থ হওয়ায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে দুই সপ্তাহের জন্য পেছানো হয়েছে রাগীব আলীর প্রতারণা মামলার রায়। আব্দুল হাইও এই মামলার আসামী। এছাড়া আরো চারজনও আসামী রয়েছেন প্রতারণার মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার তারাপুর চা বাগানের ভূমি আত্মসাতের মামলায়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রায় পেছানোর নির্দেশনা দেন সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো। এরআগে বৃহস্পতিবার দুপুরে একই আদালত আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি এই মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন।

আদালতে সরকারপক্ষের সহকারী কৌঁসুলি (এপিপি) মাহফুজুর রহমান জানান, রাগীব ছেলে আব্দুল হাইকে ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ উল্লেখ করে রায় স্থগিতের জন্য আবেদন করেন ইউসুফ খান নামের এক ব্যক্তি। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত রায় পেছানোর নির্দেশনা দেন।

সেই নির্দেশনা মূখ্য হাকিম আদালতে এসে পৌছলে আদালত তা গ্রহণ করে দুই সপ্তাহের জন্য রায় ঘোষণা স্থগিত করেন। এই সময়ের মধ্যে আব্দুল হাইকে চিকিৎসা করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত এই মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, এরআগে দুপুরে এই মামলার রায়ের জন্য ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছিলেন আদালত। মামলার ৩৩ সাক্ষীর মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতের রাগীব আলীর ছেলের আইনজীবী ব্যারিস্টার কাফি বলেন, আব্দুল হাই মানসিকভাবে সুস্থ নন। তিনি আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করার মতো অবস্থায় নেই। আমরা বিষয়টি আদালতের নজরে এনে মামলার কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন জানাই। আজ (বৃহস্পতিাবার) বিচারপতি সৈয়দ কামরুল ইসলাম ও বিচারপতি জাফর আহমদ আমাদের আবেদন আমলে নিয়ে মামলার কার্যক্রম দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিতের নির্দেশ দেন।
 
এই মামলায় রাগীব আলী ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন তাঁর ছেলে আবদুল হাই, মেয়ে রেজিনা কাদির, জামাতা আবদুল কাদির, ঘনিষ্ঠ আত্মীয় দেওয়ান আবদুল মজিদ ও চা বাগানের

সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত। আসামীদের মধ্যে রাগীব আলী ও আব্দুল হাই জেলহাজতে, পঙ্কজ গুপ্ত ও আব্দুল মজিদ জামিনে এবং রেজিনা কাদির ও আব্দুল কাদির পলাতক রয়েছেন।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯০ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি করে প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া সেবায়েত সাজিয়ে তারাপুর চা বাগানের ৪২২ দশমিক ৯৬ একর দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করেন রাগীব আলী। হাজার কোটি টাকার এই সম্পত্তি দখলের পর তা ধ্বংস করে স্থাপনা নির্মান করেন রাগীব আলী।

প্রতারণার মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার এই ভূ-সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় রাগীব আলীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন সিলেট সদরের তৎকালীন ভূমি কমিশনার এস এম আবদুল কাদের।

এই মামলার বিরুদ্ধে রাগীব আলী উচ্চ আদালতে গেলে দীর্ঘদিন পর গত বছরের শুরুতে তার নিষ্পত্তি হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে মামলা পুনরায় চালুর নির্দেশ দেয়। সেই সঙ্গে তারাপুর চা-বাগান দখল করে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওই আদেশের পর গত বছরের ১৫ মে চা-বাগানের বিভিন্ন স্থাপনা ছাড়াও ৩২৩ একর ভূমি সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন।

মামলা হওয়ার ১১ বছর পর গত বছরের ১০ জুলাই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটের অতিরিক্ত সুপার সারোয়ার জাহান আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
গতবছরের ১০ আগস্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে রাগীব আলী ও তার একমাত্র ছেলে আবদুল হাই ওই দিনই জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সপরিবারে ভারতে পালিয়ে যান তিনি। এরপর ১২ নভেম্বর ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে রাগীব আলীর ছেলে আব্দুল হাইকে গ্রেপ্তার করে জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুলিশ। আর ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় ২৪ নভেম্বর ভারতে গ্রেপ্তার হন রাগীব আলী। ওই দিনই সিলেটের সুতারকান্দি সীমান্ত দিয়ে তাকে তাকে দেশে এনে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর শুরু হয় বিচার কার্যক্রম।

এরআগে গত ২ ফেব্রুয়ারি ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির মামলার রায়ে রাগীব আলী ও তাঁর ছেলের ১৪ বছরের সাজা প্রদান করেন একই আদালত।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত