মিনহাজ মির্জা, গোয়াইনঘাট

২৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ০০:৫২

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি গোয়াইনঘাটের বেড়িবাঁধ প্রকল্পের কাজ

দীর্ঘ পাঁচ বছরেও সম্পন্ন হয়নি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ প্রকল্পের কাজ। বাঁধের সাথে স্লুইস গেইটের সংযোগে ভাটি ভরাট না হওয়ায় ফাঁকা স্থান নিয়ে জমিতে ঢুকে পড়ছে পানি। পাহাড়ি ঢল আর অকাল বন্যায় ফসল হারাতে হচ্ছে কৃষকদের। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবারের ঢলে তলিয়ে যায় এই এলাকার বোরো ধান।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি আর এলজিইডি কর্মকর্তাদের সঠিক তদারকি কারণে পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্পের কাজ।

গোয়াইনঘাটের স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনয়নের আসামপাড়া, আসামপাড়া হাওড়, নবম খন্ড, সানকী ভাঙ্গা ও নয়াগাঙ্গের পাড় হাওড় এলাকার ফসল আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য ২০১২ সালে জাপানিজ ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেটিভ এজেন্সি (জাইকা)-এর সহযোগীতায় প্রায় ১২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ স্থাপনের কাজ শুরু হয়।

এর মধ্যে স্থানীয় এলাকার কৃষকদের সমন্বয়ে গঠিত নলজুরি খাল পানি ব্যাবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড (রেজিনং-১/২০১২ইং) এর মাধ্যমে ৫ হাজার ৮’শ মিটার বেড়ি বাঁধের কাজ সম্পন্ন করা হয়। একই সাথে বেড়িবাঁধ প্রকল্পের আওতাধীন এলাকার জমিতে চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা পূরণ ও অপসারণের সার্থে ৪টি স্লুইসগেট নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ৪টি গেট নির্মাণের কাজ পায় সিলেটের এমএমআরজেবি কন্সট্রাকশন নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বেড়িবাঁধ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করে স্থানীয় নলজুরি খাল পানি ব্যাবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিলো।

কিন্তু গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত তিন দফায় কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করার পরও স্লুইসগেটের এপ্রোচের মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
তবে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে কাজ অসম্পন্ন রেখেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি হস্তান্তর করে বলে দাবি স্থানীয় কৃষকদের।

কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় প্রতিবছরই অকাল বন্যায় ফসল হারাতে হচ্ছে কৃষকদের। গত বৃহস্পতিবার ভোরে পিয়াইন ও সারী নদী দিয়ে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি স্লুইস গেটের পাশ দিয়ে প্রবেশ করে ওই এলাকার প্রায় ৫০ হেক্টর জমির বুরো ধান ও রবি শষ্য তলিয়ে যায় বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা। তাদের দাবি, গত বছরেও পাহাড়ী ঢল ও বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে নষ্ট হয়েছে প্রায় ১শ’ হেক্টর জমির ইরি ও বোরো ফসল।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ফিরোজ মিয়া জানান, স্লুইস গেটের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে হাওরে পানি পাহাড়ি ঢলের প্রবেশ করে আমাদের বুরো ধান ও রবি শষ্য তলিয়ে গেছে। তারা সময় মতো স্লইস গেটের এপ্রোচের মাটি ভরাট করলে আমাদের এমন ক্ষতি হতো না।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

গোয়াইনঘাটের স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারি প্রকৌশলী পলাশ আহমেদ বলেন, কাজের তদারকির বিষয়ে আমাদের কোন ক্রটি নেই। এক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একটু গাফলতি রয়েছে। তারা চাইলে অনেক আগেই এর কাজ সম্পন্ন করতে পারতো। তবে কাজটি চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত