২৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ১৫:৫৩
‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’ স্লোগান বাস্তবায়নে বন্দিদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু রয়েছে দেশের কারাগারগুলোয়। বন্দিজীবন শেষে তারা যেন কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, সেজন্য তাদের বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। কারিগরি এসব প্রশিক্ষণে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন সিলেট বিভাগের কারাবন্দি।
গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্দিদের ওপর পরিচালিত জরিপে এমন তথ্য পেয়েছে কারা অধিদপ্তর। তবে মুক্তি পাওয়ার পর তারা কর্মক্ষেত্রে কতটুকু সফলতার সঙ্গে কাজ করতে পারছে, সে বিষয়টি নিয়মিত ফলো-আপ সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মোট ২৮টি ট্রেডে বন্দিদের কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে কারাগারে। এর মধ্যে রয়েছে— ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউজওয়্যারিং, মেনজ অ্যান্ড জেন্টস পার্লার, ব্লক, বাটিক ও বুটিক, কারচুপি, হর্টিকালচার অ্যান্ড নার্সারি ডেভেলপমেন্ট, টাইলস ফিটিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড অডিও ভিজুয়াল রিপেয়ার, ওয়েল্ডিং, মাশরুম কালটিভেশন, চামড়াজাত হস্তশিল্প, বিউটিফিকেশন, ড্রেস মেকিং অ্যান্ড টেইলারিং, সেলাই প্রশিক্ষণ, মত্স্য চাষ প্রশিক্ষণ, নরসুন্দর প্রশিক্ষণ, প্লাম্বিং অ্যান্ড পাইপ ফিটিংস, কেঁচো সার, সিভিল পেইন্টিং, পারটেক্স ফার্নিচার, ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ, সেলফোন সার্ভিসিং, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, ব্যাগ তৈরি, ভূমিকম্পকালীন দুর্যোগ মোকাবেলা ও প্রাথমিক চিকিত্সা, মৌ চাষ, রেফ্রিজারেশন, দর্জি প্রশিক্ষণ এবং দুগ্ধবতী গাভী পালন ও গরু মোটাতাজাকরণ। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে কিছু প্রশিক্ষণ রয়েছে কারা কর্তৃপক্ষের নিজস্ব। বাকি প্রশিক্ষণগুলোর ব্যবস্থা করছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আরডিআরএস, মুসলিম এইড, ঢাকা আহসানিয়া মিশনসহ বেশ কয়েকটি সংস্থা।
কারা সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা দেশের কারাগারে থাকা ৭৬ হাজার ৭৬৮ জন বন্দির মধ্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়েছে ২ হাজার ৬১৯ জন। এর মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগের ৮২৯ জন বন্দি কারাগারে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়েছে। ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চসংখ্যক বন্দি সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক বন্দি নিয়েছে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউজওয়্যারিং প্রশিক্ষণ। বন্দি প্রশিক্ষণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রংপুর বিভাগ। এ বিভাগের ৪৮২ জন বন্দি কারাগারেই নানা ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়েছে। রংপুর বিভাগের সর্বোচ্চসংখ্যক বন্দি সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক বন্দি নিয়েছে দর্জি প্রশিক্ষণ।
বন্দি কারিগরি প্রশিক্ষণের দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। এ বিভাগের ৩৩৯ জন বন্দি কারা অভ্যন্তরে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। রাজশাহী বিভাগের বন্দিদের মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক বন্দি ব্লক, বাটিক ও বুটিক প্রশিক্ষণ নিয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক বন্দি মেনজ অ্যান্ড জেন্টস পার্লারে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। বন্দিদের প্রশিক্ষণে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে খুলনা বিভাগ। এ বিভাগের ৩৩১ জন বন্দি কারা অভ্যন্তরে প্রশিক্ষণ নিয়েছে।
এর মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক বন্দি সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে দর্জি প্রশিক্ষণ নিয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক বন্দি প্রশিক্ষণ নিয়েছে মেনজ অ্যান্ড জেন্টস পার্লারে।
বন্দি কারিগরি প্রশিক্ষণে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগের ২৭৪ জন বন্দি কারা অভ্যন্তরেই কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক বন্দি প্রশিক্ষণ নিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে দর্জি প্রশিক্ষণ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক বন্দি কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মাশরুম কালটিভেশন প্রশিক্ষণ নিয়েছে। বন্দিদের কারিগরি প্রশিক্ষণে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে বরিশাল বিভাগ। এ বিভাগের ২৫৪ জন বন্দি কারা অভ্যন্তরেই প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক বন্দি সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এ বিভাগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক বন্দি নিয়েছে কারচুপি প্রশিক্ষণ।
বন্দি কারিগরি প্রশিক্ষণে সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে সিলেট বিভাগ। এ বিভাগের ১১০ জন বন্দি কারা অভ্যন্তরে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক বন্দি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে মত্স্য চাষ প্রশিক্ষণ নিয়েছে।
কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার বলেন, কারাগারে বন্দিরা সাজা শেষে সমাজে ফিরে যাবে। তাই এর আগেই তাদের প্রশিক্ষিত করে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হবে। তারা সামাজিক জীবনে ফিরে গিয়ে যাতে স্বাভাবিক জীবনে নিজেকে নিয়োগ করতে পারে, সেজন্যই প্রশিক্ষণের এ ব্যবস্থা।
তিনি জানান, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ বন্দিদের জন্য প্রশিক্ষণ পুনর্বাসন স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যেসব বন্দি প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, তাদের বাইরের কারিগরি প্রতিষ্ঠানের সনদ দেয়া হচ্ছে। কারণ তাদের মাধ্যমেই বন্দিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে তারা এ কারিগরি শিক্ষার কতটুক প্রয়োগ ঘটাচ্ছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, আসলে লোকবলের এত সংকট যে, এসব বন্দিকে প্রশিক্ষণ-পরবর্তী ফলোআপ সম্ভব হয় না। তবে আমাদের পরিকল্পনা আছে, কিছু লোকবল বৃদ্ধি করা হলে আমরা নিয়মিত মুক্তি পাওয়া বন্দিদের প্রশিক্ষণ পরবর্তী জীবন ফলোআপ করব।
সূত্র : বণিত বার্তা
আপনার মন্তব্য