২৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ১৭:২৪
‘সরকারবিরোধী’ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত বছরের জুনে সিলগালা করা হয়েছিলো সিলেট নগরীর লালবাজার এলাকার ইলেকট্রো অফসেট প্রেস নামের একটি ছাপাখানাকে। তবে সিলগালা করার মাত্র দুই মাস পর এই ছাপাখানাকেই দেওয়া হয়েছে সিলেট শিক্ষাবোর্ডের অধীনে বিভিন্ন মুদ্রণ, বাধাই ও সেলাইয়ের কাজ।
চলতি বছরের এসএসসি, এইচএসসি এবং গত বছরের শেষ হওয়া জেএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রের কাভার পৃষ্ঠা মুদ্রণ, বাধাই ও সেলাইয়ের ১৩ লক্ষ ১৭ হাজার ৯২০ কাজ পায় ইলেকট্রো অফসেট প্রেস। গত বছরের ২১ আগস্ট এক স্মরাকে ইলেকট্রো অফসেট প্রেসকে এই কাজ দেওয়ার কথা জানায় শিক্ষা বোর্ড।
এ ব্যাপারে সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান একেএম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বিধি অনুসারেই এই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। এতে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। তবে ওই সিলগালা করার বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান।
কিবরিয়া তাপাদার বলেন, ওই ছাপাখানাকে খুব গোপনীয় কোনো কাজও দেওয়া হয়নি। প্রশ্নপত্র আমরা ঢাকা থেকেই ছাপাই। উত্তরপত্রের মোড়কসহ কিছু ছোট কাজ ওই প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছিলো। তারা ইতোমধ্যে কাজ বুঝিয়ে দিয়েছে। আগামীতে এসব কাজও আমরা ঢাকা থেকে করাবো।
গত বছরের ৪ জুন লালবাজারের আরাফাত মঞ্জিলে অভিযান চালিয়ে ‘সরকারবিরোধী’ কাজের অভিযোগে সিলগালা করা হয়েছিলো ইলেকট্রো অফসেট প্রেসকে। আটক করা হয়েছিলো ওই প্রেসের তিন কর্মচারীকে।
ওই অভিযানে নেতৃত্বে দিয়েছিলেন কোতোয়ালি থানার থানার তৎকালীন সেকেন্ড অফিসার ও বর্তমান বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফয়েজ আহমদ। তিনি বলেন, সেদিনের অভিযানের পর সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে ওই ছাপাখানার বিরুদ্ধে মামলা হয়। সম্প্রতি ওই মামলায় ছাপাখানার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযুক্তপত্রও দেওয়া হয়েছে। তবে সেদিনের আটকৃতরা জামিনে রয়েছেন বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত এবং ফাঁসি হওয়া জামায়াত ইসলামীর নেতাদের পক্ষে সাফাই গেয়ে পোষ্টার ছাপানোর সময় অভিযান চালিয়ে সিলগালা করা হয়েছিলো ইলেকট্রো অফসেট প্রেস।
এ ব্যাপারে যোগাযোগের জন্য ইলেকট্রো অফসেট প্রেসের সাইনবোর্ডে থাকা মোবাইল ফোন নাম্বারে কল করলেও কেউ তা রিসিভ করেননি।
আপনার মন্তব্য