২৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ২১:২৯
ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পরিবহন শ্রমিকেরা।
পূর্বঘোষণা ছাড়াই মঙ্গলবার সিলেট, ঢাকাসহ সারা দেশে ধর্মঘট শুরু করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। এমন ভোগান্তির মাঝেই পরিবহন শ্রমিকরা তাদের ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন শ্রমিকরা রাস্তায় নেমেছেন পিকেটিংয়ে। বাধা দিচ্ছেন যান চলাচলে, যানবাহন থেকে নামিয়ে দিচ্ছেন যাত্রীদের। ফলে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। যদিও পিকেটিংয়ের কথা অস্বীকার করেছেন সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সিলেট বিভাগের সভাপতি সেলিম আহমেদ ফলিক।
মঙ্গলবার দুপুরে সেলিম আহমেদ ফলিক পিকেটিংয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, "আমাদের শ্রমিকরা কোনো পিকেটিং করছে না। স্বতস্ফুর্তভাবে পরিবহন ধর্মঘট পালিত হচ্ছে।"
কিন্তু সরেজমিন সেলিম আহমেদের বক্তব্যের সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায় নি।
এদিকে, পিকেটিংয়ের কবলে পড়া যাত্রীদের অনেকেই লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। অনেক জায়গায় পরিবহন শ্রমিকেরা যাত্রীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণও করেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।
চারখাই থেকে সিলেট আসার পথে রাস্তায় পিকেটিংয়ের শিকার হওয়া আলী আহমদ জানান, গোলাপগঞ্জের রানাপিং বাজার পেরিয়ে চন্দনভাগ আসার পর সিএনজি থেকে সবাইকে নামিয়ে দেয় পরিবহন শ্রমিকেরা। এসময় তিনি সঙ্গে থাকা নারীদের কথা বিবেচনার অনুরোধ জানালে শ্রমিকেরা তাঁর সে অনুরোধ গ্রাহ্য করে নি বলে অভিযোগ করেন আলী।
রানাপিং থেকে গোলাপগঞ্জ এবং গোলাপগঞ্জ থেকে সিলেট কয়েক দফা রিকশা বদল করে তিনি সিলেট এসেছেন বলে জানান আলী আহমদ।
উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহতের ঘটনায় জামির হোসেন নামের এক বাস চালকের যাবজ্জীবন সাজা হয়। এ ঘটনায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় দুই দিন পরিবহন ধর্মঘট চলার পর সোমবার প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হলেও পরে শ্রমিক নেতারা কর্মসূচি বহাল রাখার কথা বলেন। এরই মধ্যে ঢাকার সাভারে ট্রাকচাপায় এক নারীকে হত্যার দায়ে সোমবার ট্রাক চালক মীর হোসেনের ফাঁসির রায় হয়।
এ নিয়ে সোমবার রাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়।
এদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে গাবতলীতে এক সমাবেশে বাংলাদেশ আন্তজেলা ট্রাক চালক ইউনিয়নের সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দাবিদাওয়া সম্পূর্ণ মেনে নিলে শ্রমিকরা গাড়ি চালাবেন। দাবি না মানলে কর্মসূচি চলবে। আইন বাতিল ও দণ্ডিত চালকদের মুক্তি না দিলে গাড়ি চলবে না।’
আপনার মন্তব্য