০২ মার্চ, ২০১৭ ০১:১৯
চারু ও কারুশিল্পে বাংলাদেশের রয়েছে সুদীর্ঘ ঐতিহ্য। সিলেটে বেঙ্গল ক্রাফট সোসাইটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প নিয়ে আয়োজন করেছে কারুমেলার। সিলেটের চলমান ‘মানবিক সাধনায় বেঙ্গল সাংস্কৃতিক উৎসব’-এ চলছে এই কারুশিল্পের প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনী চত্বরের নামকরণ করা হয়েছে গুরুসদয় দত্তের নামে। গুরুসদয় লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণের অগ্রপুরুষ ও ব্রতচারী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
কারুমেলায় রয়েছে মণিপুরি কাপড় ও এর বয়নশিল্প। মণিপুরি বয়নশিল্প যোগ করেছে এক অপরূপ সম্ভার। কৌশলগত বয়নের ভিন্নতা এবং বৈচিত্র্যময় নকশা ও রঙের বর্ণিল বিন্যাসে নিজস্বতার এক শিল্প নিদর্শন হয়ে আছে আজ অবধি।
এ প্রদর্শনীতে মণিপুরি শাড়ি (৩৪০০ থেকে ৪৫০০ টাকা), উড়না (৮০০-১৪০০ টাকা), চাদর (১৪০০-১৮০০ টাকা), ব্যাগ (৭২০-৮০০ টাকা) ও বড় চাদর (৪০০০ টাকা) স্থান পেয়েছে।
এ প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া মোইরাং-এর কর্ণধার যোগেশ্বর সিংহ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সিলেটের মনিপুরী বয়নশিল্প সিলেট শহর ও মৌলভীবাজার জেলার শতাধিক দক্ষ মণিপুরি তাঁতশিল্পীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে ‘মোংরাই’ নামের টেক্সটাইল।
তিনি আরো বলেন, অক্সফাম ও এডকো মণিপুরি বয়নশিল্পের নান্দনিক সৌন্দর্য, গুণগত মান কার্যকরভাবে মানসম্পন্ন করে সময়োপযোগী নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করে। মাত্র ছয় মাস কার্যক্রমের এক বাস্তবচিত্র ফুটে ওঠে প্রদর্শনীতে পণ্যের সমারোহের মাধ্যমে। কিন্তু এখন আমাদের এ ঐতিহ্য প্রায় বিলুপ্তির পথে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে আমাদের এ শিল্পকে সংরক্ষণে কারো উদ্যোগ নেই। তবে তিনি এও বলেন এ শিল্পের প্রচুর চাহিদা রয়েছে দেশ বিদেশে।
দশদিনব্যাপী চলা এ উৎসবে ২৫ ধরনের কারুশিল্পের অবদানকে তুলে ধরেছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। শুধু সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মণিপুরি বয়নশিল্পই নয়, এখানে রয়েছে ঝিনাইদহের শোলা শিল্পকর্ম, কুষ্টিয়ার একতারা ও দোতারা, নারায়ণগঞ্জের হাতপাখা, জামদানি ও কাঠশিল্প, কুমিল্লার খাদি, ঢাকার ধাতব শিল্প, উল ও পাটজাত পণ্য, শঙ্খ, রাজশাহীর পোড়ামাটির কারুশিল্প ও শখের হাঁড়ি, লহরি কাঁথা, মাগুরার শোলার মালা, বরিশালের মৃৎশিল্প, যশোরের নকশিকাঁথা, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির তাঁত, সিরাজগঞ্জের গামছা, লুঙ্গি ও শাড়ি, ময়মনসিংহের কাগজ শিল্পকর্ম এবং টাঙ্গাইলের শাড়ি ও বাঁশের কাজ।
সিলেটের মনিপুরী বয়নশিল্পের পাশাপাশি শীতলপাটিরও দেখা মিলবে কারুমেলায়। এই সব শিল্প দেখে সোনালি অতীতে ফিরে যান অনেক বয়োবৃদ্ধরা।
কথা হয় ঝিনাইদহের শোলা শিল্পী গোপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সাথে। তিনি বলেন, শোলা থেকে তিনি তৈরি করেন শিল্পকর্ম। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে তিনি এ কাজ করছেন। বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শোলা শিল্পীর খ্যাতি অর্জন করেছেন বলেও জানান তিনি।
গোপেন্দ্রনাথ আরো বলেন, শোলা দিয়ে তৈরি করা তাঁর তাজমহলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। একটি তাজমহল বানাতে সময় লাগে দুই সপ্তাহ, যা ৩০০০ টাকায় ও বিক্রি হয়ে থাকে। ময়ূরপঙ্খি নৌকার দাম ৫০০০ টাকা, আর চড়ুই, দোয়েলের মূল্য ৫০ টাকা। প্রতি বছর বৈশাখী মেলায় ঢাকার হোটেল সোনারগাঁতে স্টল দেন তিনি।
আপনার মন্তব্য