নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ মার্চ, ২০১৭ ২৩:২২

মদনমোহন কলেজ সাহিত্যপরিষদের উদ্যোগে নগরে নিসর্গজ্যোতি’র অন্তরঙ্গপাঠ

কবি, প্রাবন্ধিক এম এ রব সংবর্ধণগ্রন্থ ‘নগরে নিসর্গজ্যোতি’র অন্যরকম অন্তরঙ্গপাঠ মদনমোহন কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলেজ সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান সিলেটের কবি সাহিত্যিকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

গ্রন্থালোচনার অনুষ্ঠান হলেও পুরো অনুষ্ঠানেই ছিল ভিন্নতার আমেজ। কেউবা  লেখককে জানিয়েছেন শুভেচ্ছা, কেউবা ধন্যবাদ, আবার কেউবা জানিয়েছেন কৃতজ্ঞতা। তবে আলোচ্য বইয়ের গঠনতান্ত্রিক আলোচনা ছাপিয়ে বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যা আরও উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল এম রবের কবিতা থেকে কবিদের আবৃত্তিতে। এক মোহনীয়তায় আচ্ছাদিত ছিল খোয়াইপাড়ের কবিকে নিবেদিত সন্ধ্যা। দীর্ঘদিনের সাধনার স্বরূপ উপলব্ধি করে কবিও আপ্লুত হন সহযাত্রীদের ভালোবাসায়।

মদনমোহন কলেজ সাহিত্যপরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজ অধ্যক্ষ ডক্টর আবুল ফতেহ ফাত্তাহ। অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ইকরামুল ওয়াদুদ, রবীন্দ্রগবেষক মিহিরকান্তি চৌধুরী, মদনমোহন কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক হোসনে আরা কামালী এবং লেখক গবেষক অপূর্ব শর্মা।

উজ্জ্বল দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই মদনমোহন কলেজ সাহিত্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম উপস্থিত সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আজকে আমরা এমন একজন সাহিত্যিকের গ্রন্থের অন্তরঙ্গ পাঠে সমবেত হয়েছি যিনি আপদমস্তক প্রগতিশীল ও নিভৃতচারী একজন লেখক। নির্মোহচিত্তে তিনি তাঁর সাহিত্যসাধনা অব্যাহত রেখেছেন। তাকে সম্মাননা জানিয়ে আমরা নিজেরাই সম্মানিত বোধ করছি।

অপূর্ব শর্মা তার বক্তব্যে বলেন, আজকের অনুষ্ঠানটি সত্যিই ভিন্ন ধরনের। কারণ আজকের অনুষ্ঠানের আয়োজক অধ্যক্ষ ডক্টর আবুল ফতেহ ফাত্তাহর সাথে এর আগে কখনও দেখা হয়নি এম এ রবের। তবে, তারা একে অন্যের লেখার পাঠক দীর্ঘদিনের। যা এক কথায় অনন্য। সাহিত্য যে সেতুবন্ধন তৈরি করে তার প্রমান আজকের অনুষ্ঠান।   

হোসনে আরা কামালী গ্রন্থের নামকরণের প্রশংসা করে বলেন, ‘সত্যিই সত্যিই তিনি নিসর্গের কবি। নগরে বসে তিনি প্রকৃতির কথাই তুলে ধরছেন কবিতায়। আমাকে যদি বলা হয়, লেখক না কবি হিসেবে তিনি আমার কাছে প্রিয় আমি অকপটে বলবো, তাঁর কবিতাই আমার প্রিয়। কামালী বলেন, তিনি এক ভিন্ন প্যাটার্নের কবি। তাঁর কাব্য নির্মাণের কৌশল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী।   

মিহির কান্তি চৌধুরীর বক্তব্যে গ্রন্থের সার্বিক মূল্যায়ন ওঠে আসে। সাহিত্যের মান বিচারে ‘নগরে নিসর্গজ্যোতি’ অনন্য এমন দাবি করে তিনি বলেন, তার কবিতায়, লেখায় যেমন নিসর্গের কথা উঠে এসেছে তেমনি উঠে এসেছে এক কবির বিরহকাতরতা। সমাজের অসংগতি ব্যাভিচারও তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন তার লেখায়। যা এক কথায় অসাধারণ।  

ইকরামুল ওয়দুদ বলেন, ‘মদনমোহন কলেজ সাহিত্যপরিষদকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই এ ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য। উপস্থিত সাহিত্যিকদের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘অনেক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যের সময় আর স্রোতা খোঁজে পাওয়া যায় না। আপনারা দীর্ঘ সময় ধরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সাহিত্যের প্রতি আপনাদের অনুরাগ কতটা গভীর সেটাই প্রমাণ করেছেন। যা আমার মনে থাকবে অনেক কাল।’

অনুষ্ঠানে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে অনেকটাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এম এ রব। বলেন, ‘আমি কখনও ভাবিনি এরকম একটি অনুষ্ঠানের মধ্যমণি হব। সত্যিই কি আমি এর যোগ্য-এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আমার জন্য আজ আপনারা কষ্ট করে, মূল্যবান সময় নষ্ট করে এখানে সমবেত হয়েছেন। আপনাদের ভালোবাসার এ ঋণ অপরিশোধ্য।’ তিনি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য মদনমোহন কলেজ সাহিত্য পরিষদ ও এর সভাপতি আবুল ফতেহ ফাত্তাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনাদের এই ভালোবাসা আগামীতে আমার চলার পথের পাথেয় হবে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেনো সুস্থ থাকতে পারি, লিখতে পারি।

সভাপতির বক্তব্যে আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, এম এ রবের সাথে আজ প্রথম দেখা হলেও তাঁর সাথে অনেক আগেই সংযোগ স্থাপন হয়েছিল। আর তা স্থাপন করেছিলেন প্রয়াত অধ্যাপক ও সাবেক ভাইসচ্যান্সেলর মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান স্যার। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করতেন এম এ রবের সাথে আমার পরিচয় আছে কি না? একইভাবে তাকেও জিজ্ঞেস করতেন আমার সম্পর্কে অনুরূপ কথা। আজই প্রথম তার সাথে দেখা হল। তবে তার হৃদস্পন্দন, তার ভাবালুতা অনেক আগেই আমাকে স্পর্শ করেছিল। একজন লেখকের সাথে অপর লেখকের বোধহয় এভাবেই হৃদ্যতা গড়ে ওঠে।

তিনি বলেন, আশ্চর্য্য হতে হয় যখন দেখি এম এ রব হার্টের মধ্যে ৬টি রিং থাকা সত্ত্বেও সাহিত্যচর্চা অব্যাহত রেখেছেন এ জন্যই বোধ হয় সাহিত্যকে হৃদয়ের প্রাণশক্তি বলা হয়।
তিনি তাঁর সাহিত্যযাত্রা অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে রবি ঠাকুরের কবিতা থেকে উদ্ধৃত করেন ‘তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারই দান, গ্রহণ করেছ যত ঋণ তত করেছ আমায়।’
অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ ও আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, অধ্যাপক আসমা-উল-হোসনা, এনায়েত হাসান মানিক, কবি মোহাম্মদ হোসাইন, প্রভাষক জেরিন আক্তার চৌধুরী, অরিন্দম দত্ত, কবি পুলিন রায়, কবি মাশুক উবনে আনিস, কবি আবিদ ফয়সাল, কবি প্রণব কান্তি দেব, অপু চৌধুরী, ইয়াসিন খাঁ, তোফাজ্জল সোহেল, সিদ্দিকী হারুন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে লেখক এম.এ রবকে কলেজ সাহিত্য পরিষদের পক্ষ থেকে একটি ক্রেস্ট, কবির প্রতিকৃতি ও উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত