নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০১:৫১

‘ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য’ জাফলংয়েও বন্ধ হচ্ছে না পাথর উত্তোলন

গত ১১ জানুয়ারি সিলেটের গোয়ানাইঘাট উপজেলার জাফলংকে ভ’তাত্ত্বিক ঐহিত্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে জাফলংয়ের ২২.৫৯ একর জায়গাকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরআগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাফলং থেকে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়।

তারও আগে ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জাফলংয়ের কিছু এলাকাকে পরিবেশ সঙ্কটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়।

তবে এতোকিছুর পরও জাফলং থেকে বন্ধ হচ্ছে না অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন। অবৈধ উপায়ে পাথর উত্তোলনের ফলে ধ্বংস হচ্ছে জাফলংয়ের পরিবেশ। একইসঙ্গে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।

সর্বশেষ গত ৮ মার্চ জাফলংয়ের মন্দিরের জুম এলাকায় পাথর উত্তোলনের গর্তে মাটি চাপা পড়ে মোস্তাকিন মিয়া নামের এক শ্রমিক নিহত হন। তারও আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি  জাফলংয়ের সোনাটিলায় পাথর উত্তোলনকালে মাটিচাপা পড়ে মারা যান কামরুজ্জামান ও তাজউদ্দিন নামের দুই শ্রমিক। আহত হন আরো একজন।

গত ১১ জানুয়ারি জাফলংকে ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ঘোষণা করে প্রকাশিত গেজেটে উল্লেখ করা হয়, ‘দেশের বিভিন্ন বিভাগের ভ’তত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীগণ একাডেমিক গবেষণার অংশ হিসেবে ও ভূতত্ত্ব গবেষকগণের গবেষণা এবং ভ’তাত্ত্বিক ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং ডাউকী নদীর পাড়ে বাংলাদেশের একমাত্র ইয়োসিন যুগের উন্মুক্ত লাইম স্টোন, কপিলি শেইল-এর স্তর সমূহ এবং বোল্ডার বেডসহ ২২.৫৯ একর এলাকাকে ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করা হলো।’

জেলা প্রশাসনের ভূমি-সংশ্লিষ্ট শাখা সূত্রে জানা গেছে, জাফলংয়ের ১৮৮ দশমিক ৭০ হেক্টর জায়গা পাথরকোয়ারি (পাথর উত্তোলনস্থল) চিহ্নিত করে ইজারা-ব্যবস্থার মাধ্যমে ১৯৮০ সাল থেকে পাথর উত্তোলন শুরু হয়। শুরুতে সনাতনপদ্ধতিতে এ কাজ চললেও প্রায় এক দশক ধরে শুরু হয়েছে যন্ত্র ব্যবহার। এর মধ্যে মাটির গভীর থেকে পাথর উত্তোলনে ব্যবহার করা হচ্ছে বোমা মেশিন। এ যন্ত্র নিষিদ্ধ করা হলেও ব্যবহার বন্ধ হয়নি।

জাফলংয়ের বাসিন্দারা বলেন, সনাতনপদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হতো না। কিন্তু কম সময়ে বেশি পাথর তুলতে অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা ২০০৯ সালের দিকে কোয়ারিতে বোমা মেশিন আমদানি করেন। এ যন্ত্র দিয়ে পাথর তোলায় জাফলংয়ের পরিবেশ নষ্ট হয়ে পড়েছে। ওই বছরই বেলার রিটের ফলে বোমা মেশিন নিষিদ্ধ করেন উচ্চ আদালত। তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এ যন্ত্রের ব্যবহার অবাধে চলতেই থাকে।

 গোয়াইনঘাটের উপেজলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও চুরি করে কেউ কেউ পাথর উত্তোলন করতো। এখন কঠোর নজরদারির মাধ্যমে তা বন্ধ করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত