নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ মার্চ, ২০১৭ ১৭:৩৭

দায়িত্ব পেয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করবো: আরিফ

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব ফিরে পেয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করবো।

সোমবার নগরীতে নদীবিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন আরিফ। সোমবারই উচ্চ আদালত মেয়র পদ থেকে আফিরকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে। ফলে মেয়রের দায়িত্ব নিতে আরিফের আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা।

আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষ্যে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার। সোমবার বিকেলে সুরমা নদীর চাঁদনীঘাটে এই কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন আরিফুল হক। দায়িত্ব ফিরে পেতে আদালতের নির্দেশনার পর প্রথম এই অনুষ্ঠানেই হাজির হন আরিফ।

এসময় আরিফুল হক বলেন, আমি যখন দায়িত্বে ছিলাম, তখন নদী ও খাল অবৈধ দখলমুক্ত করার কাজ শুরু করেছিলাম, এখন আবার দায়িত্বে বসে পরিবেশ রক্ষার কাজে মননিবেশ করবো।

সকলের সহযোগিতা কামনা করে আরিফ বলেন,  নদী তীরে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করেন ভালো, কিন্তু তারা নদীতে ময়লা আবর্জনা ফেলে দূষণ করছেন, এটি তদারকি করারও কেউ নেই। এমনটি আর করতে দেওয়া হবে না।

নদী পাড়ে বসবাসকারীদের তিনি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, নদীর পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

পরে সুরমা নদীতে আটটি কই মাছের পোনা অবমুক্ত করে পাঁচদিনব্যাপী নদী বিষয়ক এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন আরিফ।

সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার আব্দুল করিম কিমের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির ইকু, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিম, সচেতন নাগরিক কমিটি-সিলেটের সভাপতি ইরফানুজ্জামান, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্টার জামিল আহমেদ চৌধুরী, সিলেট সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশু, সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত, পরিবেশ কর্মী আব্দুল হাই আল হাদী প্রমুখ।

সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার আব্দুল করিম কিম আয়োজকদের পক্ষ্যে স্বাগতিক বক্তব্যে বলেন, শত নদীর প্রবাহ ছিল বাংলাদেশের উত্তরপূর্বাঞ্চল সিলেট বিভাগে । অধিকাংশ নদীর অস্তিত্ব এখন হুমকিতে । সিলেট বিভাগের প্রধান নদী সুরমা ও কুশিয়ারার উজানে বরাক নদীতে ভারত সরকারের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প 'টিমাইমুখ ড্যাম' বাতিলের কোন সুস্পষ্ট ঘোষনা নেই । উপরন্ত এ অঞ্চলের আন্তঃসীমান্ত একাধিক নদীর গলা টিপে ধরার চেষ্টা করেছে উজানের প্রতিবেশী ভারত । ধনু, মনু, ধলা, পিয়াইন, খোয়াই ও ধলাই নদীতে বাঁধ ও স্লুইসগেট করে শুকনো মৌসুমে একতরফা পানি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। সিলেট বিভাগে প্রবেশকারী প্রায় প্রতিটি আন্তঃসীমান্ত নদীর উজানে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রনের চেষ্টায় রয়েছে ভারত । যা আন্তর্জাতিক নদী আইনের চরম লঙ্ঘন।

তিনি আর বলেন, সিলেটের প্রধান নদী সুরমা'র উৎসমুখ ভরাট হয়ে যাচ্ছে । ফলে সুরমা বরাক নদী থেকে ক্রমান্বয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরছে । যা সুরমার জন্ম পরিচয় বদলে দেবে । সিলেটের অধিকাংশ নদীই বিপন্ন । সিলেটের অভ্যন্তরেও নদীসমুহের সাথে বৈরি আচরণ চলছে । পিয়াইন, সারি, ধলাই, লোভা, যাদুকাটা, চলতি নদী, রাংপানি ইত্যাদি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্থ করে পাথর উত্তোলন চলছে । অপরিকল্পিত এই পাথর উত্তোলনে ডাউকি নদী আজ হারিয়ে গেছে । সুরমা, কুশিয়ারা, খোয়াই ও মনূ নদী নানাভাবে বর্জ্য দূষণের স্বীকার । বাসিয়া, লুলা, বড়ভাগা, কুইগাং নানাভাবে দখলের স্বীকার । সোনাই নদীর অভ্যন্তরে নির্মিত সায়হাম ফিউচার পার্ক নদীরক্ষায় প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতার নির্মম সাক্ষী । মাধবপুর-চুনারুঘাটে গড়ে ওঠা শিল্পাঞ্চল সুতাং, সুনাই, বলভদ্র নদীর পানি বিষাক্ত করছে । সিলেটের অধিকাংশ নদী বালু ব্যাবসায়ীদের মুনাফার আঁধার । ইচ্ছেখুশি বালু উত্তোলন এখানে স্বাভাবিক বিষয় ।

(আগামীকাল) ১৪ই মার্চ আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবসে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার অমলসিদ নামক স্থানে সুরমা কুশিয়ারা ও বরাক নদীর মোহনায় সুরমা নদীর উৎসমুখ অবিলম্বে খনন শুরুর দাবিতে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হবে। জকিগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে বেলা বারোটায় এ কর্মসূচি শুরু হবে। ১৫ মার্চ বিয়ানীবাজারে মৃতপায় 'লুলা নদী'কে দখলমুক্ত করতে মানববন্ধন, ১৬ মার্চ সুরমা নদীর সাথে সংযুক্ত খাল-ছড়ার অবৈধ্য দখল উচ্ছেদ ও দূষণ প্রতিরোধে নাগরিক সংলাপ ও ১৮ মার্চ শনিবার গোয়াইনঘাটে পিয়াইন নদী ও নদী তীরের প্রাচিন স্থাপনা মন্দিরের জুম রক্ষায় প্রতিবাদী কর্মসুচী পালন করা হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত