১৯ মার্চ, ২০১৭ ১৮:৪৭
রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র জাফলংকে ধ্বংস করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করা হয়েছে। রোববার দুপুরে নগরীর একটি হোটেলে ‘জাফলং সংরক্ষণ: প্রয়োজন আইনের কঠোর প্রয়োগ’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এতে বেলার কর্মকর্তা ছাড়াও নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা জাফলং সুরক্ষায় করণীয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন। জাফলংয়ের সুরক্ষায় আদালতের নির্দেশনাও মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করে এখানকার প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রয়োজন বলে অভিমত দেন বক্তারা।
শুরুতে জাফলংয়ের বর্তমান অবস্থা এবং জাফলংয়ের প্রাকৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে একটি স্লাইড প্রদর্শন করেন বেলা’র সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আখতার।
তিনি বলেন, জাফলংয়ে বোমা মেশিন বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশ রয়েছে। তাছাড়া এই এলাকাকে প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। তবু জাফলং থেকে বোমা মেশিন ব্যবহার করে পাথর উত্তোলন থামছে না। এভাবে পাথর তুলতে গিয়ে মারা যাচ্ছেন শ্রমিকরা।
তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন, বিজিবি ও পুলিশের নির্লিপ্ততা ও সহযোগীতার কারণে জাফলং থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। এদের পশ্রয়ই পাথরখেকোরা প্রকৃতির লীলাভ’মিখ্যত জাফলংকে ধ্বংস করে ফেলেছে।
এসময় অন্যান্য বক্তারা বলেন, পাথর উত্তোলনের নামে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে পর্যটন সমৃদ্ধ জাফলংয়ের পরিবেশ ও প্রতিবেশ। স্থানীয় প্রশাসন পরিবেশ ধ্বংস করে পাথর উত্তোলনকে উৎসাহিত করছে। ফলে জাফলংয়ে অবৈধ বোমা মেশিন, শ্যালো মেশিন ও পেলোডারের ব্যবহার বন্ধ করা যাচ্ছে না। এতে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি শ্রমিকদের হতাহতেরও ঘটনা ঘটছে। গত এক মাসে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে জাফলংয়ে নিহত হয়েছেন ৭ শ্রমিক। কিন্তু এসব ঘটনায় পাথরখেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
এছাড়াও পাথর ব্যবসায়ীদের প্রতি জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের নমনীয়তার অভিযোগ এনে তাদের পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এজন্য জাফলংয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখা, প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ ও বিজিবিকে কার্যকর ভূমিকা পালনে বাধ্য করা, অবিলম্বে সকল বোমা মেশিন, স্টোন ক্রাশার মেশিন অপসারণ ও ধ্বংস, দোষী পাথর ব্যবসায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।
বক্তারা জাফলংয়ের প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার্য় সরকার ঘোষিত প্রতিবেশ সঙ্কটাপন্ন এলাকা বাস্তায়নের দাবি জানান এবং স্থানীয় প্রশাসন, সিলেটের রাজনৈতিক, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- এফআইভিডিবির নির্বাহী পরিচালক যেহীন আহমেদ, সিলেট জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি, এমাদউল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন, সচেতন নাগরিক কমিটি, সিলেটের সভাপতি ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, সুজন সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম নবেল, এনজিও ব্যক্তিত্ব বেলাল আহমেদ, পূর্ব জাফলং ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এম.এ রহিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আপনার মন্তব্য