২৩ মার্চ, ২০১৭ ১৮:৪৫
নিরাপত্তা কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলনে এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্র নবীগঞ্জের বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড এলাকা আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা কর্মচারীদের ১১ দফা দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে নানা আন্দোলন কর্মসূচীতে পালন করলেও আমলে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত একটানা ৪ ঘন্টাব্যাপী চলে নিরাপত্তা কর্মচারীদের বিক্ষোভ সমাবেশ।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ চলাকালে প্রচণ্ড রোদের তাপদাহে ৩ জন নিরাপত্তা কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদেরকে স্থানীয় সূর্যের হাসি ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা ৩ দিনের মধ্যে তাদের দাবি পূরণ না হলে আবারো আমরণ অনশনসহ লাগাতার কঠোর কর্মসূচীর হুশিয়ারি দেন। বিক্ষোভ সমাবেশের খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জানা যায়, উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়ন ও ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নে অবস্থত এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্র ও আউশকান্দি সাউথ সাউথ প্যাড। এ গ্যাস ক্ষেত্রে তৈল উত্তোলনকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শেভরন বাংলাদেশের নিরাপত্তা কর্মচারী হিসাবে প্রায় দেড় যুগ ধরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করে আসছেন নিরাপত্তা কর্মচারীরা। আন্দোলনকারীদের দাবি বকেয়া বাৎসরিক মুনাফা আদায় ৫%, চাকুরী স্থায়ী করণ, প্রতি বছর বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধিকরণ, জ্বালানী খনিজ ক্ষেত্রে শ্রমিক কর্মচারীদের ঝুঁকি ভাতা সংযুক্ত করণ, শ্রমিক কর্মচারীদের বাসস্থান ও যোগাযোগ ভাতা সংযুক্ত করণ, কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্য নীতি দূরীকরণ, অনাদায়ী ছুটি নগদিকরণ, সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন ধার্য্যকরণ, প্রত্যেক শ্রমিক কর্মচারীদের বীমায় সংযুক্ত করণ, (চিকিৎসা, জীবনঝুঁকি পরিবার ইত্যাদি) ও বেতন বৈষম্য দূরীকরণ।
আন্দোলনকারীরা জানান, তারা অবহেলিত, নিপীড়িত ও অধিকার বঞ্চিত হচ্ছেন। উল্লেখিত সময়ে বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্রবেশ মুখেই অবস্থান নেয় নিরাপত্তা কর্মচারীরা। পরে প্রধান ফটকে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।
সামছুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও রূপন তালুকদার সাগরের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন কাজী এবাদুর রশিদ, জন্টু চরণ, নিদু দেব, রানু মোহন শর্মা, রাসেল আহমদ, জাহেদ চৌধুরী, সন্তোষ, তপুর মিয়া, আলম, মুসলিম উদ্দিন, অমর আলী, আলী আমজাদ, পারুল মিয়া, আবুল মিয়া, হাসনাত, হিবজু, সাজ্জাত হোসেন, সাইফুল ইসলাম, আকবর, কবির মিয়া, রোহুল আমিন, আশুতোষ, মাজহারুল ও নিজাম প্রমুখ।
বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে নিরাপত্তা কর্মচারী ফয়ছল আহমদ, শংকর সিংহ ও নুরুন্নবী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন। সহকর্মীদের এমন অবস্থার জন্য শেভরনকেই দায়ী করেন নিরাপত্তা কর্মচারীরা। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় সূর্যের হাসি ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি এস এম আতাউর রহমান, এসআই মোবারক হোসেন ও ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ধর্মজিত সিনহাসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আপনার মন্তব্য