০৯ মার্চ, ২০১৮ ২৩:৪৭
লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলাকারী ফয়জুর হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার তাকে রিমান্ডে নেওয়ার পর ওইদিন থেকেই জিজ্ঞাসবাদ শুরু হয়। শুক্রবারও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
তবে জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য পাওয়া গেছে তা এখনই জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জালালাবা্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর ইসলাম।
এদিকে, গাজীপুর থেকে আটক ফয়জুরের ভাই এনামুল হাসানকে শুক্রবার রাতে সিলেটে আনা হয়। শুক্রবার তাকে মহানগর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।
কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটর (সিটিটিসি) উপ-কমিশনার মহিদুল ইসলাম খান।বলেন, আটক এনামুল ও তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত মোবাইল, ট্যাব ও মেমোরি কার্ডও এসএমপিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃস্পতিবার (০৮ মার্চ) সন্ধ্যায় গাজীপুর থেকে এনামুলকে আটক করা হয়।
জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলামও ফয়জুরকে তাদের কাছে হস্তান্তরের কথা জানান।
এদিকে বৃহস্পতিবার (০৮ মার্চ) ফয়জুরের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড মঞ্জুরের পর এদিনই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় নিশ্চিত করে শফিকুল ইসলাম বলেন, নগর পুলিশের একটি ইউনিটের কার্যালয়ে রেখে তাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কয়েকটি ইউনিট দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, ফয়জুর কোন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, নেপথ্যে কারা? তাদের সনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখই এসব বলা যাচ্ছে না।
হামলার ঘটনায় ফয়জুরের পরিবারের চার সদস্য বাবা হাফিজ আতিকুর রহমান, মা মিনারা বেগম, মামা ফজলুর রহমান, ভাই এনামুল হাসান ও শাবিপ্রবি গ্রন্থাগারের নিরাপত্তা প্রহরী খালেকুজ্জামান, বাইসাইকেল কারিগর জাহিদ পুলিশ হেফাজতে আছেন।
ওসি আরো বলেন, হত্যা চেষ্টার ঘটনায় ব্যবহৃত ছুরি, রক্তমাখা কাপড়, ফয়জুলের ব্যবহৃত সাইকেল এরইমধ্যে জব্দ করা হয়েছে।
গত শনিবার (০৩ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলার শিকার হন অধ্যাপক জাফর ইকবাল। তার মাথায় এবং হাতে ছুরিকাঘাত করে হামলাকারী ফয়জুল। হামলার পরপরই তাকে আটক করে গণপিটুনি দেন শিক্ষার্থীরা। এই হামলার ঘটনায় শাবির রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে ফয়জুরকে আসামী করে জালালাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
আপনার মন্তব্য