১৪ মার্চ, ২০১৮ ১৩:০৩
সিলেটে হামলার শিকার হয়ে ১০ দিন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন থাকার পর অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল সিলেট এসে পৌঁছেছেন।
বুধবার (১৪ মার্চ) বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটে নভো-এয়ারের একটি ফ্লাইটে করে তিনি সিলেট আসেন। এ সময় তাঁর সাথে স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হকসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন।
এ সময় তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ড. ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাসসহ আরো অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
এর আগে বেলা ১২টায় নভো-এয়ারের একটি ফ্লাইটে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার আগে শাহজালাল বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, আমি কখনো ভয় পাই না। এখনো পাচ্ছি না। আমি মুক্তমঞ্চে দাঁড়িয়ে আবারও কথা বলব। আমাদের দেশটা অনেক সুন্দর। তোমরা দেশটাকে ভালোবাসো। দেখবে দেশও তোমাদের ভালোবাসবে।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করে আন্তঃবাহিনী গণসংযোগ পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম শাম্মী জানান, ড. জাফর ইকবাল এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। তবে আগামী সাতদিন তাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, জাফর ইকবালের ফিরে আসা নিয়ে উচ্ছ্বাসিত ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জাফর ইকবালকে ক্যম্পাসের 'ব্র্যান্ডম্যান' উল্লেখ করে আজ তারা তাঁকে বরণ করে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
বিকেল ৪টায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে আসবেন তিনি। যেখানে ৩ মার্চ হামলার শিকার হন তিনি ওই স্থানে দাঁড়িয়েই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। শিক্ষার্থীদের নিয়ে আবারও মেতে উঠবেন জাফর ইকবাল এমন প্রত্যাশা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশাফকুল হোসেন জানান, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এখন পুরোপুরি সুস্থ। চিকিৎসা ছাড়পত্র পাওয়ার পর আজ দুপুরে তিনি সিলেট পৌঁছাবেন। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হবে।
৩ মার্চ (শনিবার) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে পেছন থেকে অধ্যাপক জাফর ইকবালের মাথায় ছুরিকাঘাত করেন আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী এক যুবক। পরে তাকে শিক্ষার্থীরা ধরে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।
অধ্যাপক জাফর ইকবালকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর রাতেই হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় আনা হয়। এরপর ৩ মার্চ রাত থেকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন ড. জাফর ইকবাল।
এদিকে এ ঘটনায় ফয়জুল, তার ভাই, বাবা ও মামা পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন।
আপনার মন্তব্য