২১ মার্চ, ২০১৮ ০০:২৯
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালটিতে ডাক্তার সংকট, চরম অব্যবস্থাপনার কারণে চিকিৎসা সেবা ভেঙে পড়েছে। হাসপাতালটিতে ১৭ জন ডাক্তারের পোস্ট থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন ডাক্তার।
দেড় বছর আগে প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের চেষ্টায় ৩০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা উন্নীত করা হয় দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালটি। তবুও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাওর পাড়ের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা হাসপাতালে এসে বিনা চিকিৎসায় বাড়ি ফিরছেন বলেও জানা যায়। ৩০ শয্যা দিয়ে শুরু হওয়া এই হাসপাতালের এক্সরে মেশিন টি অকেজো, রোগীদের মাঝে দেওয়া খাদ্য সামগ্রী অল্প ও নিম্ন মানের বলে অভিযোগ রয়েছে। দুটি এ্যাম্বুলেন্স মধ্যে একটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খোলা আকাশের নীচেই বিনষ্ট হচ্ছে আর অন্যটি চলছে ধুঁকেধুঁকে। পুরাতন ভবনের রোগীদের তীব্র পানির অভাব রয়েছে। রোগীদের সাথে আলাপকালে তারা অভিযোগ করে বলেন নতুন ভবনের দামি উন্নতমানের ফার্নিচার ও কারুকাজ দেখতে অনেকেই আসেন আর আমরা বারান্দায় শুয়ে আছি।
সামান্য অসুস্থ হলেই সিলেট প্রেরণ করা হয় এমনো অভিযোগ করে ভুক্তভুগিরা বলেন, ৫০ শয্যা হওয়ায় আমরা মনে করেছিলাম কিছু হলেও চিকিৎসা সেবা পাব। নতুন ভবন উদ্বোধন হলেও চালু না হওয়ায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত আমরা। ইচ্ছে থাকলে যে পাঁচ-ছয় জন এমবিবিএস ডাক্তার রয়েছে তাদের দিয়ে চালু করা যেতো নতুন ভবনটি। ডাক্তার সাহেবরা প্রাইভেট চিকিৎসা নিয়া ব্যস্ত থাকেন বলেও অভিযোগ তাদের।
সুনামগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস বলেন লোকবলের স্বল্পতা জন্য নতুন ভবনটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ চলছে, খুব তাড়াতাড়িই ৫০ শয্যা হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আপনার মন্তব্য