নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ মার্চ, ২০১৮ ১৫:৪২

মাহিদ হত্যা: জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি

"আর কত লাশ পড়লে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে, ছিনতাই ছিনতাই আর কতো রক্ত চাই, এতো এতো রক্ত কেনো? অনিরাপদ সিলেট নয় নিরাপদ সিলেট চাই, জাগো প্রশাসন জাগো অপরাধীদের ধরো, মাহিদ ভাই কি একলা মরছে? তাঁর সাথে কি আমরা মরি নাই?? আর কতো শুনবো আকাশবাণী??? এবার আমরা বাঁচতে চাই মাহিদ হত্যার বিচার চাই, নিরাপদে বাঁচতে চাই বাচার মতো বাঁচতে চাই, হত্যা ছিনতাই রাহাজানি সব বন্ধ কর, সব ছাড়িয়া কলম ধর, ছিনতাই ছিনতাই কেড়ে নিল প্রাণটাই"। এরকম ভিন্ন ভিন্ন স্লোগানে সিলেটে মাহিদ হত্যার প্রতিবাদ জানায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। তাদের একটাই দাবি সিলেটের সড়কগুলো নিরাপদ দেখতে চান তারা।

এ দাবি নিয়ে মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) দুপুর ২টায় মিছিলসহ স্মারকলিপি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আসে শিক্ষার্থীরা। এসময় তাদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে জেলা প্রশাসন। পরে জেলা প্রশাসকের হাতে এ স্মারকলিপি তুলে দেয় শিক্ষার্থীরা।

এসময় জেলা প্রশাসক নূমেরী জামান শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে করে বলেন, এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে সকাল নয়টা থেকেই উত্তাল থাকে শবি ক্যাম্পাস। এসময় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের অন্তত সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। পরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ মিছিলটি পরবর্তীতে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌহাট্টা এসে সড়ক অবরোধ ও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এসময় নিরাপদ সিলেটের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।

এছাড়াও আন্দোলনকারীরা এসময় মাহিদ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের দাবী জানান।

এদিকে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আঘাতে নিহত মাহিদ আল সালামের মরদেহ বিকেল ৪টার দিকে শাবি ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মরদেহ দাফনের জন্য নেওয়া হবে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) সাবেক শিক্ষার্থী মাহিদ আল সালাম (২৮) কে গত রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ছিনতাইকারীরা ছুরিকাঘাত করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। মাহিদ নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকার জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও আইনজীবী প্রয়াত এমএ সালামের ছেলে। শাবির অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন এ শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে কিছুদিন বেসরকারি একটি মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত