নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ মার্চ, ২০১৮ ১৭:৪৫

বিউটি হত্যা : ১৩ দিন পর টনক নড়ল পুলিশের!

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের কিশোরী বিউটি আক্তার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ১৩ দিন পার হলেও প্রথমে তা আমলে নেয়নি কেউই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে এনিয়ে ব্যাপক আলোচনার পর অবশেষে নড়ে চড়ে বসেছে প্রশাসন। ১৩ দিন পর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে গঠন করা হয়েছে একটি তদন্ত কমিটি।

এ কমিটিতে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ স ম শামছুর রহমান ভূঁইয়াকে প্রধান করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলছে প্রশাসন।

তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা (বানিয়াচং সার্কেল) ও সহকারী পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মো. নাজিম উদ্দিন।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জের ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের দিনমজুর সায়েদ আলীর মেয়ে বিউটি আক্তারকে (১৪) বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বাবুল মিয়া ও তার সহযোগীরা। এরপর এক মাস তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। এক মাস নির্যাতনের পর বিউটিকে কৌশলে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায় বাবুল।

এ ঘটনায় গত ১ মার্চ বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা স্থানীয় ইউপি মেম্বার কলমচানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে মেয়েকে সায়েদ আলী তার নানার বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন।

এরপর বাবুল ক্ষিপ্ত হয়ে ১৬ মার্চ বিউটি আক্তারকে উপজেলার গুনিপুর গ্রামের তার নানার বাড়ি থেকে রাতের আঁধারে জোর করে তুলে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণের পর তাকে খুন করে লাশ হাওরে ফেলে দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে ১৭ মার্চ তার বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল মিয়াসহ দুজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর ২১ মার্চ পুলিশ বাবুলের মা কলমচান ও সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের ঈসমাইলকে আটক করে। কিন্তু মূল হোতা বাবুলকে পুলিশ আটক করতে পারেনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত