৩১ মার্চ, ২০১৮ ০১:০৫
বৈশাখ শুরু হতে এখনো দিন পনেরো বাকী। তবে বৈশাখ আসার আগেই শুরু হয়ে গেছে কালবৈশাখি ঝড়। গত দু'দিন ধরে সিলেটে চলছে কালবৈশাখীর তান্ডব। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও ঝড় হয়েছে সিলেটে। এতে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে অনেক বাড়িঘর। বিপর্যস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। আর ওসমানীনগরে ঝড়ের কবলে পড়ে মারা গেছেন দু'জন।
শুক্রবার বিকালে সিলেট নগরে ব্যাপক ঝড় হয়। ঝড়ের সাথে ছিলো শিলাবৃষ্টিও। ঘূর্ণিঝড়ে অনেক স্থানে ঘর-বাড়ির টিনের চালা উড়িয়ে নিয়ে যায়। অনেক স্থানে গাছ-পালা উপড়ে পড়ে। ঘূর্ণিঝড়ের পর নগরীর অনেক স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে অন্ধকার নেমে আসে নগরীর বেশিরভাগ এলাকাজুড়ে।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার পর থেকে শুরু হয় দমকা হাওয়া। সাথে বৃষ্টিও। ঘূর্ণিঝড়ে দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারসহ অনেক স্থানে গাছ-পালা রাস্তায় উপড়ে পড়েছে। এ কারণে ওই রাস্তায় যান চলাচল সাময়িক ব্যাহত হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ২৯ মিনিটে আরেক দফা ঘূর্ণিঝড় হয়। ঘূর্ণিঝড়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে সাইনবোর্ড ও ব্যানার উপড়ে পড়ে। অনেক বস্তি এলাকায় ঘরের চাল উড়ে যায়। প্রচন্ড বাতাসের কারণে অনেক বাসাবাড়ি ও রাস্তাঘাটের উপর গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে এবং বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে। ঝড়ের সাথে প্রবল বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়া থাকায় পথচারীরা পড়েন বেকায়দায়। ঝড় শুরু হবার সাথে সাথে শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী রতন কুমার বিশ্বাস বলেন, ঝড়ে কয়েকটি স্থানে বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে গেছে ও খুঁটি উপড়ে পড়েছে। এগুলো মেরামতের কাজ চলছে।
এদিকে, ঝড়ে ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউপির দশহাল গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে নূরুল আলমের নির্মাণাধীন ঘরের টিন উড়ে গিয়ে গলা কেটে সাবিয়া বেগম(৪৫) নামের এক মহিলা ঘটনা স্থলেই নিহত হন। নিহত সাবিয়া বেগম বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুরের সোনাপুর গ্রামের খালিছ মিয়ার স্ত্রী বলে জানিয়েছেন ওসমানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা।
এছাড়া ঝড়ের সময় পানিতে ডুবে হাসান আহমদ নামের ১৬ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়। মৃত হাসান উপজেলার উমরপুর ইউপির সিকন্দরপুর রং বরং গ্রামের সুমন আহমদের ছেলে।
আপনার মন্তব্য