৩১ মার্চ, ২০১৮ ০১:২৫
সিলেটের গোলাপগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত সহ গাছপালা, উঠতি বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিদুত্যের খুটি ভেঙ্গে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে পুরো উপজেলা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) রাত ৯ টা থেকে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়, আধাঘন্টা চলে ঝড়ের তাণ্ডব। শুক্রবার (৩০ মার্চ ) বিকেল থেকে আবারো শুরু হয় বৃষ্টির সাথে ঝড়। এর আগে বুধবার রাতে কুশিয়ারা অঞ্চলের শরিফগঞ্জে আঘাত হানে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়।
জানা যায়, উপজেলার নিম্নাঞ্চল এলাকা শরীফগঞ্জ ইউনিয়ন, বুধবারীবাজার ইউনিয়ন, ভাদেশ্বর ইউনিয়নের একাংশ ও বাদেপাশা ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক ঘর কাল বৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। শরীফগঞ্জের কালিকৃষ্ণপুর, রাংজিওল ইসলামপুর ও নুরজাহানপুর, ভাদেশ্বরের ফতেহপুর, গোয়াসপুর ইসলামপুর ও শেখপুর সহ কুশিয়ারা অঞ্চলের ও হাকালুকি হাওর পারের ২৫/৩০টি গ্রাম একেবারে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। এসব এলাকার কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছপালা উপড়ে পড়ার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এছাড়া শরিফগঞ্জ ইউনিয়নের হাকালুকির হাওর ও লম্বা বিলের দুই একর বোরো ধান ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
হাকালুকি হাওর পারের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন সিরাজী জানান, বুধবার হঠাৎ করে বৃষ্টির সাথে কাল বৈশাখী ঝড় শুরু হয়। এতে আমার ঘর সহ হাকালুকি হাওর পাড়ের প্রায় ১০/১৫ টি ঘরবাড়ির টিনের চালা উড়ে যায়।
শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের কালিকৃষ্ণপুর গ্রামের কামাল হোসেন জানান, কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই পুরো এলাকা লণ্ডভণ্ড করে দেয় কাল বৈশাখী ঝড়।
উপজেলার পৌর এলাকারও বেশ কয়েকটি গ্রামেও কাল বৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। গাছপালা ও বিদুত্যের খুটি ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে গেছে। পৌর এলাকার ইয়াগুল গ্রামের হারুন আহমদ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কাল বৈশাখী ঝড়ে গ্রামের বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়ে গেছে। আমার সহ অনেকের বিদুত্যের লাইনও ছিঁড়ে গেছে।
সিলেট পল্লী বিদুৎ সমিতি-১ এর গোলাপগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মামুনুর রশিদ জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিদুত্যের খুটি ভেঙ্গে ও লাইন ছেড়ে যাওয়ায় বিদুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছেনা। তিন বারের কাল বৈশাখী ঝড়ে উপজেলার প্রত্যেকটি এলাকায় বিদুত্যের লাইনের উপর অনেক গাছ উপড়ে পড়েছে। বিদুৎ সরবরাহ করতে পল্লী বিদুৎ কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।
এ ব্যপারে উপজেলা কৃষি কর্রমকর্তা খায়রুল আমীন জানান, ঝড়ে উপজেলার প্রায় ২ একর বোরো ধান নষ্ট হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে আমরা ভিজিডি ও ভিজিএফ সহ সব ধরণের সাহায্য সহযোগীতা করবো।
আপনার মন্তব্য