০৩ এপ্রিল, ২০১৮ ২২:১৩
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে চাঞ্চল্যকর কিশোরী বিউটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তিন সদস্যের কমিটি। প্রতিবেদনে এসআই জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। একইসাথে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রধান হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ স ম শামছুর রহমান ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এরইমধ্যে এসআই জাকির হোসেনকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনসে রাখা হয়েছে।
আ স ম শামছুর রহমান ভূঁইয়া জানান, বিউটি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা শায়েস্তাগঞ্জ থানার এসআই জাকির হোসেনের অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এজন্য তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের পুরাইকলা বাজার সংলগ্ন হাওর থেকে স্কুলছাত্রী বিউটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল মিয়াসহ দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ মার্চ বাবুলের মা কলম চাঁন ও সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের ইসমাইলকে আটক করে পুলিশ।
এর আগে গত ১ মার্চ বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা কলম চাঁনের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ স ম শামছুর রহমান ভূঁইয়াকে প্রধান করে ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করে জেলা পুলিশ।
এরপর ৩১ মার্চ বিয়ানীবাজারে ফুপুর বাড়ীতে আত্মগোপনে থাকা বাবুলকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রোববার আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠায়।
আপনার মন্তব্য