নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ এপ্রিল, ২০১৮ ১৬:০০

হত্যাকাণ্ডের দিন ঘটনাস্থলের আশেপাশেই ছিলেন নাজমুল

সিলেট নগরীর মিরাবাজারস্থ খারপাড়া এলাকায় মা ও ছেলে হত্যাকাণ্ডের দিন ঘটনাস্থলের আশেপাশেই ছিলেন নাজমুল হোসেন। বুধবার (৪ এপ্রিল) নাজমুলকে গ্রেপ্তারের পর সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় এক সংবাদ সম্মেলন করে এমনটাই জানিয়েছেন সিলেট কোতোয়ালী থানার সহকারী কমিশনার গোলাম কাওসার দস্তগীর

এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সিলেটের বটেশ্বর বাজার এলাকা থেকে নাজমুলকে গ্রেপ্তার করে মহানগর পুলিশের একটি দল।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হতে পেরেছি যে, এ হত্যাকাণ্ডের সাথে নাজমুলের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং সেদিন তার অবস্থা ঘটনাস্থলের আশেপাশেই ছিল।

হত্যাকাণ্ডটি কবে সংঘটিত হয়েছে এমন এক প্রশ্নের জবাবে গোলাম কাওসার দস্তগীর বলেন, পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে সময়টা আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয়।

গ্রেপ্তার নাজমুল হোসেন শাহপরান থানাধীন মুক্তিরচর এলাকার মৃত হাজী মোহাম্মদ আব্দুল করিম মেম্বারের ছেলে। তিনি আবাসন ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানায় পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, নিহত রোকেয়ার সাথে নাজমুলের পরিচয় অনেক দিনের। তারা দুজন মিলে একটি বিউটি পার্লার করার কথা ছিল এজন্য রোকেয়ার কাছ থেকে সে টাকাও নিয়েছে।

এদিকে, আজ বুধবারই তাকে আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট কোতোয়ালী থানার সহকারী কমিশনার গোলাম কাওসার দস্তগীর, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গৌছুল হোসেন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রোকেয়া বেগম।

প্রসঙ্গত, মিরাবাজারের মিতালী আবাসিক এলাকার ১৫/জে নম্বর বাসায় রোকেয়া বেগম (৪০) তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনের (১৭) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের ভাই জাকির হোসেন সূত্রে জানা যায়, গত একবছর ধরে ভাড়া থাকতেন। গত শুক্রবার বিকেলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রোকেয়াদের সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। এরপর থেকে তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল।

রোববার সকালে তাদের খোঁজ নিতে মিরাবাজারস্থ বাসায় আসেন নিহতের ভাই জাকির হোসেন। বাসায় এসে ভেতর থেকে তিনি তাদের দরজা বন্ধ দেখতে পান। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও কেউ দরজা না খোলায় তিনি বাড়ির মালিককে খবর দেন।

পরে বাড়ির মালিক ঘটনা শুনে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে ঘরে প্রবেশ করে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় ঘরের মধ্যে কান্নারত অবস্থায় পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত