শাকিলা ববি

০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ১৩:৩৪

নারীদের পাশাপাশি পাতা তোলায় ব্যস্ত পুরুষ চা শ্রমিকরাও

মূলত বর্ষা কালে চা পাতা তোলার মৌসুম হলেও সিলেটের চা বাগানগুলোতে এখন গ্রীষ্মকালেও চলে পাতা তোলার ধুম। তবে এই পাতা সংগ্রহে এবার দেখা গেল একটু ভিন্নতা। চা বাগানগুলোতে সাধারণত নারী চা শ্রমিকরা পাতা তুললেও সিলেটের মালনিছড়া চা বাগানে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। সেখানে নারী শ্রমিকদের পাশাপাশি এবারই প্রথম পাতা তুলছেন পুরুষ শ্রমিকরাও।

চা বাগানের পুরুষ শ্রমিকরা সাধারণত চারা গাছ রোপণ, বাগান পাহারা দেয়া, স্প্রে করা, আগাছা পরিষ্কার, রাস্তা-ঘাট ঠিক করা ও বাগানের ভিতরে ড্রেন করার কাজ করে থাকেন। তবে এ সিজনের কয়েকদিন তারা পাতা তোলার কাজ করেন বলে জানান পুরুষ চা শ্রমিকরা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৮০জন পুরুষ শ্রমিক পাতা তুলছেন মালনিছড়া চা বাগানের ৭ নাম্বার সেকশনে। বাগানের কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) থেকে নারী শ্রমিকদের পাশাপাশি পুরুষ শ্রমিকরা পাতা তোলার কাজ শুরু করেছেন।

মালনীছড়া চা বাগানের সর্দার রাজু শা বলেন, পাতার বেশি বয়স হয়ে গেলে পাতা বাঞ্জি হয়ে যায়। যার ফলে নতুন পাতা ছাড়তে দেড়ি হয়। এই পাতাগুলো এখন না তুললে কচি পাতা (চা গাছে কুড়ি) আসবে না। এই সেকশনের ৩দিন ছেলেরা পাতা তুলবে। আজ থেকে শুরু হয়েছে ছেলেদের পাতা তোলা। এরপর মেয়েরাই পাতা তুলবে, তবে অন্য সেকশনে যদি মেয়েরা পিছিয়ে যায় তাহলে আমরা পাতা তোলে তাদের সাহায্য করি।

জানা যায়, চা গাছ ছাঁটাই করার পর গাছে নতুন পাতা আসে। ওই পাতার বয়স একটু বেরে গেলে সেটাকে বাঞ্জি পাতা বলা হয়। ওই বাঞ্জি পাতা উঠানোর পরই আসে চায়ের মূল কুঁড়ি। বাঞ্জি পাতা থাকলে গাছ নষ্ট হয়ে যায়। পাতা হয় না। যার ফলে প্রোডাকশন নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই বাঞ্জি পাতা তোলা শুধু মাত্র নারী শ্রমিকরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না, কারণ বাগানের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পাতা তোলে আসতে সময় লাগে। তাছাড়া এই পাতাগুলো তোলারও নিদিষ্ট সময়সীমা আছে। নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম হওয়ার ফলে এই সেশনের মধ্যেই বাঞ্জি পাতা তোলা শেষ করতে পুরুষ শ্রমিকদের পাতা তোলতে নামানো হয়েছে।

পুরুষ চা শ্রমিক কাঁকন কুর্মি ও ভুট্টো মৃধা বলেন, সারা বছর আমারা চা বাগানের অন্য কাজগুলো করি। তবে বাগানের প্রয়োজনে গাছ ভাল রাখতে এই সময়টাতে আমরা পাতা তোলার কাজ করছি। ভালই লাগছে পাতা তোলতে।

মালনীছড়া চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল আজিজ বলেন, সাধারণত নারী শ্রমিকরাই চায়ের পাতা তোলার কাজ করেন এবং পুরুষরা বাগানের অন্যান্য কাজ করেন। এখনো নারী শ্রমিকরাই পাতা তুলছেন। পাতা একটু বড় হয়ে যাওয়ার কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না তুললে নতুন কুড়ি আসে না। যার ফলে প্রোডাকশন বেঘাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নারী শ্রমিকরা কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। তাই পুরুষদের পাতা তোলতে নামানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, পুরুষ শ্রমিকদেরও ২০ কেজির টার্গেট দেয়া আছে। তবে ২০ কেজির নিচে পাতা তুললেও সেটা হাজিরা হিসেবে নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও ২০ কেজির উপরে পাতা তুললে বাড়তি মজুরির ও ব্যবস্থা আছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত