কামরুল ইসলাম মাহি, জগন্নাথপুর

০৮ এপ্রিল, ২০১৮ ১৭:০১

মইয়ার হাওরে ধান কাটা শুরু, কৃষকদের মুখে হাসি

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের দ্বিতীয় বৃহৎ মইয়ার হাওরে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি। স্বপ্নের লালিত ফসল গোলায় তোলতে ব্যস্ত এখন কৃষক পরিবার।

রোববার (৮ এপ্রিল) মইয়ার হাওর কৃষকদের ধান কাটার দৃশ্যে দেখা গেছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, দুই বছরের ফসলহারা কৃষকরা ধানক্ষেতের পাকা ফসল কর্তনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ধান কাটা, ধান মাড়াই, ধান শুকানো এসব কাজে কৃষাণ-কৃষাণী ও তাদের পরিবারের ছোট বড় সবাই গোলায় ধান তুলতে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন মহা উৎসবে। ৪-৫ দিন আগে থেকে ধান কাটা শুরু হয়েছে এ হাওরে। আরও ১০-১২ দিনের মধ্যেই পুরো হাওরের ধান কাটা শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।

এদিকে শিশু সন্তানরাও ধানক্ষেতে সহযোগিতা করছে কৃষকদের। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও শিলাবৃষ্টির ভয় রয়েছে। তাই পাকা ধান কোনভাবে হারাতে রাজি নন কৃষকরা। পর্যাপ্ত পরিমাণে ধান কাটার শ্রমিক না থাকায় ৫-৬ জন শ্রমিক ও পরিবারের লোকজন নিয়ে ক্ষেতের ধান কাটছেন ভবানীপুর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ তাজ উল্লা (৪০)।

তিনি বলেন, অকাল বন্যায় ও শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে টানা দুই বছর ফসলের এক ছটাকও পাইনি। এবার ১৬ কেদার জমিতে বোরো আবাদ করেছি। সব ফসলই পেকে গেছে। তাই পরিবারের লোকজন নিয়ে ধান কাটা শুরু করেছি। দুই বছর পর ফসল দেখে খুশি লাগছে।

গত দুই বছর কষ্টার্জিত ফসল হারিয়ে কৃষকদের মধ্যে এ সময় হাহাকার ছিল। দিশেহারা হয়ে পড়েন কৃষকরা। শত প্রতিকূলতা ডিঙ্গিয়ে আবারও চাষাবাদ শুরু করেন তারা।

কৃষক উস্তার উল্লাহ (৫০) বলেন, গত বছর (২০১৭) ২৫ কেদারা জমিতে আবাদ করেছিলাম। বন্যার পানিতে বিনষ্ট হয়ে যায় সব ফসল। শত কষ্টের পরও আবার আবাদ শুরু করি। এখন পাকা ধান কর্তন করতে পারায় সকল কষ্ট যেন হারিয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, এবার উপজেলার নলুয়া, মইয়া, পিংলাসহ ছোট বড় ১৫টি হাওরের প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর বোরো ফসলের চাষাবাদের আওতায় আনা হয়েছে বলে জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত