০৯ এপ্রিল, ২০১৮ ১৯:০৩
পাক বাহিনীর হামলায় কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারানো শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ, ডা. শ্যামল কান্তি লালা, নার্স মাহমুদুর রহমান ও অ্যাম্বুলেন্স চালক কোরবান আলীকে স্মরণ করেছেন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
সোমবার (৯ এপ্রিল) নাগরিক মৈত্রী সিলেটের উদ্যোগে চৌহাট্টাস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও নগরীতে শোকর্যালি বের করা হয়।
১৯৭১ সালের এই দিনে সিলেট সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওপর নৃশংস আক্রমণ চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। সিলেটে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রথম বর্বর এই হামলায় কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারান ডা. শামসুদ্দিন আহমদ, ডা. শ্যামল কান্তি লালা ও তাদের কয়েকজন সহকর্মী।
প্রতি বছর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য শোকাবহ এই দিবসটি উদযাপন করে নাগরিক মৈত্রী। এবারও নাগরিক মৈত্রী সিলেটের আহবায়ক সময় বিজয় সী শেখরের উদ্যোগে বিকেল ৪টায় সিলেট কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শোকর্যালি বের করা হয়। র্যালি শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সিলেটের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এরপর শোক র্যালিতে শহীদ পরিবারের সদস্য ও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মো. আরশ আলী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট মহানগর ইউনিট কমান্ডার ভবতোষ রায় বর্মণ, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ৭১’র সিলেট বিভাগীয় সভাপতি এডভোকেট সরওয়ার আহমদ চৌধুরী আবদাল, সিপিবি সিলেটের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট গোলাম রাজ্জাক চৌধুরী জুবের, সিলেট জেলা কর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী খোকন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সত্তার চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা নীলকান্ত সিংহ, মুক্তিযোদ্ধা মো. সলিম উল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশীদ, মুক্তিযোদ্ধা আপ্তাব আলী, শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদের ভাগ্নি ফরিদা নাসরিন, ডা. নাজরা চৌধুরী, শহীদ কোরবান আলীর মেয়ে তসলিমা বিবি ও নাতনী দিলরুবা বেগম, ইমজা সিলেটের সভাপতি আশরাফুল কবির, মদন মোহন কলেজের প্রভাষক রাজিব দে চৌধুরী, দৈনিক উত্তরপূর্ব’র যুগ্ম বার্তা সম্পাদক নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ, সিনিয়র ফটো সাংবাদিক নুরুল ইসলাম ও রত্না আহমদ তামান্না প্রমুখ।
শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ‘নাগরিক মৈত্রী’ সিলেটের আহবায়ক এডভোকেট সময় বিজয় সী শেখর বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৯ এপ্রিল তৎকালীন সিলেট সদর হাসপাতালে বর্বর হামলা চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। তারা যুদ্ধের নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে চিকিৎসক এবং নার্সদের ওপর গুলি চালায়। এ সময় হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক অধ্যাপক শামসুদ্দিন আহমদ ও ডা. শ্যামল কান্তি লালা, নার্স মাহমুদুর রহমান ও অ্যাম্বুলেন্স চালক কোরবান আলী সহ কয়েকজন শহীদ হন। ঘৃণ্য এ হত্যাকাণ্ডে প্রায় ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও তাদেরকে কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে দেশমাতৃকার এ শহীদ সন্তানদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের দাবি জানিয়ে আসছে নাগরিক মৈত্রী, সিলেট।
জাতির ওই সূর্যসন্তানদেরকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে এডভোকেট সময় বিজয় সী শেখর বলেন, যাদের রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে আমরা আজ স্বাধীন। তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান জানিয়ে কিছুটা হলেও আমাদেরকে ঋণমুক্ত হতে হবে।
আপনার মন্তব্য