মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

১০ এপ্রিল, ২০১৮ ১৬:৩১

মৌলভীবাজারে ব্যবসায়ী রিপন হত্যায় একজনের স্বীকারোক্তি

ব্যবসায়ী রিপন মিয়া (২২) হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৩ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে একজন ইতিমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে হত্যার সাথে জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করেছেন।

সোমবার (১০ এপ্রিল) দুপুর দেড়টায় মৌলভীবাজার মডেল থানায় সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিং করে এত তথ্য জানায় পুলিশ।

ব্যবসায়ী রিপন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুরা ইউনিয়নের পাগুরিয়া গ্রামের কাছর মিয়ার ছেলে।

পুলিশের হাতে আটককৃতরা হলেন, সদর উপজেলার পাগুরিয়া গ্রামের মৃত মধু মিয়ার ছেলে মিনহাজ মিয়া, উপজেলার মিরপুর এলাকার শেখ মো. মদনের ছেলে শেখ আবেদ আহমদ ও জগৎপুর এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে জাহেদ আহমদ আলাল।

প্রেস ব্রিফিংয়ে মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসএসপি) মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, ৩১ মার্চ রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুরা ইউনিয়নের পাগুরিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী রিপন মিয়া (২২) এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে রিপনের বাবা কাছর মিয়া মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু ব্যবসায়ী রিপন হত্যাকাণ্ডে কোন ক্লু ছিল না পুলিশের হাতে। এমনকি নিহতের পরিবারও কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে তার কোন তথ্য দিতে পারেনি। তবে মাত্র ১ সপ্তাহ অনুসন্ধান চালিয়ে আমরা ঘটনার সাথে জড়িতদের বের করে আটক করতে পেরেছি। আটককৃতরা অকপটে হত্যার সাথে জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করেছে। এর মধ্যে মিনহাজ মিয়া আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

আসামিদের বরাত দিয়ে এসএসপি রাশেদ জানান, নিহত রিপন সমবায় ব্যবসা করত। সবাই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা তার কাছে জমা রেখে সপ্তাহে একবার লটারির মাধ্যমে একজন বিজয়ীকে তা প্রদান করা হত। একই কাজ করত মিনহাজ ও তার সঙ্গীরা। তাদের দুজনের মধ্যে রিপনের জনপ্রিয়তা ছিল বেশি। সেই ব্যবসায়ীক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মিনহাজ পিছিয়ে পড়ে এবং রিপনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। তারপর আটককৃতরা মিলে নকশা আঁকেন। যার জন্য ঐ দিন (৩১ মার্চ) রাতে রিপনের দোকানে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করেন মিনহাজ ও তার সঙ্গীয়রা। পুলিশ যাতে ধারণা করে চুরি করতে এসে চোর দল রিপনকে হত্যা করে সেই জন্য সেদিন রাতে আশপাশের কয়েকটি দোকানের তালা ভেঙ্গে চুরির আলামত তৈরি করেন তারা।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত