নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ এপ্রিল, ২০১৮ ১২:৫৫

তারাপুর চা-বাগান গণহত্যা দিবস আজ

২০১৭ সালের ছবি

তারাপুর চা-বাগান গণহত্যা দিবস আজ। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর তাদের দোসর রাজাকারদের সহায়তায় এই দিনে তারাপুর চা বাগান ও সিলেট ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই লিমিটেডের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা বৈকুন্ট চন্দ্র গুপ্তের পরিবারের পাঁচজন সদস্য, বাগানের চিকিৎসক, স্টাফ, শ্রমিকসহ ৩৯ জনকে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী।

ওই দিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান বাগানের বর্তমান সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত।

স্বাধীনতার পর বাগানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে সেখানে প্রতিবছর শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন তিনি। কিন্তু ১৯৯০ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি করে প্রতারণার মাধ্যমে তারাপুর চা-বাগানের ৪২২ দশমিক ৯৬ একর দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে নেন রাগীব আলী। এরপর থেকে এখানে দিবসটি পালিত হয়নি।

এই চা-বাগানের বন্দোবস্ত নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতির মামলায় গত ২ ফেব্রুয়ারি রাগীব আলী ও তার ছেলেকে চারটি ধারায় মোট ১৪ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। গত ৬ এপ্রিল প্রতারণার মাধ্যমে তারাপুর চা-বাগানের ভূমি আত্মসাতের মামলায় রাগীব আলী, তার ছেলে ও মেয়েসহ পাঁচজনের সাজা হয়। এর মধ্যে ৮৩ বছর বয়সী রাগীব আলীর চারটি ধারায় মোট ১৪ বছর কারাদণ্ড হয়েছে।

রাগীব আলীর কাছ থেকে বাগান দখলমুক্ত হওয়ার পর ২০১৭ সালে ২৪ বছর পর আবারও সিলেটে 'তারাপুর চা বাগান গণহত্যা' দিবস পালিত হয়। ওই দিন সকালে বাগানের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আনুষ্ঠানিকভাবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক, বাগানের সেবায়েত ও শ্রমিকরা। সম্মাননা জানানো হয় চা বাগানের শহীদ চিকিৎসক ক্ষিতীশ চন্দ্র দেকে। স্বামীর পক্ষে ৯৪ বছরের নিভা রানী দে ওই সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত