নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:২০

‘গুম’ ডাকাত জ্বিন-ভূত তাড়ানোয়, ধরে আনল পুলিশ

পরিবারের অভিযোগ ছিল অপহরণের পর লাশ ‘গুম’ করেছে পুলিশ। এনিয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেছিল তারা, আদালতেও দিয়েছিল অভিযোগ। কিন্তু পুলিশের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ‘গুম’ ব্যক্তি ডাকাতের সহযোগী, আত্মপোপনের পর ছিলেন জ্বিন-ভূত তাড়ানোর নামে তাবিজ-কবচের ব্যবসায়। তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ; সবিস্তার জানায় সংবাদ সম্মেলনে।

গ্রেপ্তার ডাকাত সহযোগী কানাইঘাট উপজেলার চরিপাড়া গ্রামের মৃত আবু ছিদ্দিকের ছেলে ফয়জুর রহমান (৪০)। ফয়জুর ছিলেন ডাকাতদলের সহযোগী; এমনটাই জানায় পুলিশ। গত ডিসেম্বরে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ফয়জুরের ভাই হবিবুর রহমান ওরফে হরুহুনা।

আত্মগোপনে থাকাকালে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব এলাকায় জ্বিন-ভুত তাড়ানোর নামে তাবিজ-কবচের ব্যবসা করছিলেন ফয়জুর। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুল আলম।

এরআগে গত ১৫ জানুয়ারি এক ছেলেকে গুলি করে হত্যা ও আরেক ছেলেকে অপহরণ করে গুম করা হয়েছে এমন অভিযোগে সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কানাইঘাট থানা পুলিশের দিকে আঙুল তুলেছিল ফয়জুরের পরিবার। আর এমন অভিযোগও আদালতে করেন নিখোঁজের স্ত্রী ফারহানা বেগম। সেই অভিযোগ পেয়ে তদন্ত নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। যাকে ‘অপহরণ করে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে’ বলে অভিযোগ উঠেছিলো সেই ফয়জুর রহমানকে ফাঁদ পেতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ফয়জুরকে গ্রেপ্তারে ভৈরব থানা পুলিশের সহায়তায় একজন মহিলাকে রোগী সাজিয়ে ফাঁদ পাতা হয়। সেই ফাঁদে পা দেন ফয়জুর রহমান। অবশেষে মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরব শহরের দুর্জয় মোড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।

পরে কানাইঘাটে তার বাড়ির সামনে কলাবাগানের মধ্য থেকে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় একটি পাইপগান ও একটি লম্বা ছোরা উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আগেই কানাইঘাট থানায় একটি মামলা ছিল। গ্রেপ্তারের পর অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ফয়জুর রহমানকে।

এদিকে, অপর ব্যক্তি সম্পর্কে পুলিশ জানায়, মামলা নং ১৬/২০/০২/২০০৯, জিআর ৩০/০৯নং এবং দায়রা ৫৯/১১নং মামলার আসামি কানাইঘাট উপজেলার চরিপাড়া গ্রামের মৃত আবু ছিদ্দিকের ছেলে হবিবুর রহমান ওরফে হরুহুনাকে গ্রেপ্তার করতে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে তার বাড়িতে অভিযান চালায় থানা পুলিশ। ওই সময় ডাকাত হবিবুর রহমান ও তার সহযোগীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। এসময় এসআই বশির আহমেদসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। ডাকাতরা পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টাকালে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে। কিছু সময় পর ডাকাতরা ফের অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এসময় হবিবুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন।

পুলিশ বলছে, হবিবুর রহমান তার সহযোগীদের গুলিতেই গুলিবিদ্ধ হন এবং পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে, তবে তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। গোলাগুলির খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। তারা আহত পুলিশ সদস্য ও হবিবুর রহমানকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা হবিবুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় কানাইঘাট থানার এসআই আবু কাউছার বাদী হয়ে ৯ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১২/১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হবিবুর রহমানের ভাই ফয়জুর রহমানকে।

ফয়জুর রহমানের পরিবারের অভিযোগ সম্পর্কে পুলিশ জানায়, গোলাগুলির ঘটনার পর ‘সহযোগী ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের প্ররোচনায়’ ফারহানা বেগম বাদী হয়ে আদালতে একটি দরখাস্ত করেন। সেখানে তিনি কানাইঘাট থানার ওসিসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তার স্বামী ফয়জুর রহমানকে অপহরণ করে লাশ গুম করার অভিযোগ করেন। দরখাস্তটির তদন্তে রয়েছে পিবিআই।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত