শাকিলা ববি

২২ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৩৪

ধোপাদিঘী ভরাট করছে সিটি করপোরেশন

দখলে-দূষণে অস্তিত্ব সঙ্কটে থাকা নগরীর ধোপাদিঘীর অনেকাংশ এবার ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। দিঘীর মালিকানার দায়িত্ব থাকা সিলেট সিটি করপোরেশনই (সিসিক) দিঘী ভরাটের কাজ করছে।

সিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, দিঘীটি রক্ষা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হচ্ছে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে- দিঘীর মাঝখানে ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। আর চারপাশে মাটি ফেলে ভরাট করে ফেলা হয়েছে।

এরআগে সিটি করপোরেশনই শিশু পার্কের জন্য এই দিঘীর অনেকাংশ ইজারা প্রদান করে। দিঘী দখল করে গড়ে উঠে ব্যক্তি মালিকানায় পরিচালিত বঙ্গবীর শিশু পার্ক। দিঘী ভরাট করে মসজিদও নির্মাণ করে সিটি করপোরেশন।

একসময় দিঘীর শহর হিসেবে পরিচিত ছিলো সিলেটের। মজুমদার দিঘী, রামেরদিঘী, লালদিঘী, ধোপাদিঘী, মাছুদিঘী, কাষ্টঘর দিঘী, সুপানিঘাট দিঘী, কাজলশাহ দিঘী, সাগরদিঘী, চারাদিঘীসহ অসংখ্য দিঘী ছিলো নগরজুড়ে। তবে এসব দিঘীর বেশিরভাগই দখল করে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। নগরীর অনেক এলাকার নাম ওইসব দিঘীর নামে নামকরণ হলেও বেশিরভাগ দিঘীরই কোনো অস্তিত্ব নেই।

ধোপাদিঘীর নাম অনুসারে নগরীর একটি এলাকারই নামকরণ হয়েছে ধোপাদিঘীর পাড়। শিশু পার্ক, মসজিদ, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আর মাইক্রোবাসের স্ট্যান্ডের নামে ইতোমধ্যে দখল করে ফেলা হয়েছে এই দিঘীর বেশিরভাগ অংশ। তবু সামান্যটুকু এতোদিন টিকেছিলো সেটুকু সৌন্দর্যবর্ধনের নামে এবার বিলীন করার উদ্যোগ নিয়েছে খোদ সিটি করপোরেশন। 


সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে- এই দিঘীটি অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তাই দিঘীটি রক্ষা ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য 'ধোপা দিঘী এরিয়া ফর ব্যটার ইনভারমেন্ট এন্ড বিউটিফিকেশন' নামে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ভারতের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে ধোপাদিঘীর চারপাশে হাটাঁর পথ (ওয়াকওয়ে) নির্মাণ করা হচ্ছে। দিঘীর মাঝখানে নির্মিত হচ্ছে বহুতল রেস্টুরেন্ট। ডালি কনস্টাকশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পের কাজ করছে। ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে তারা।

শনিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাঁটার পথ তৈরির জন্য দিঘীর চারপাশে মাটি ফেলে ভরাটের কাজ চলছে। দিঘীর মাঝখানে ভবন নির্মাণের জন্যও মাটি ভরাটের কাজ চলছে।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডালি কনস্টাকশনের প্রজেক্ট তত্ত্বাবধায়ক স্বপন রানা জানান, এই প্রকল্পের আওতায় দিঘীর চারপাশের ১৩ ফুট প্রস্থের ওয়াকওয়ে ও দিঘির মাঝখানে নৌকা আকৃতির একটি ৩ তলা ভবন নির্মাণের জন্য প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে পাইলিং, পেলাসিলিং ও বালুভরাটের কাজ চলছে। বালু ভরাটের কাজ শেষ হলে ভবনের পাইলিংয়ের কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, যে জায়গায় বর্তমানে বালু ভরাট হচ্ছে সেখানে একটি সেতুও তৈরি করা হবে দিঘীর পাড় থেকে ভবনে প্রবেশ করার জন্য ।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজীজ বলেন, এই দিঘিটি ছিল অব্যবহৃত। তাই দিঘিটির অস্তিত্ব রক্ষা ও সৌন্দর্য বর্ধন করে যেন শহরের মানুষের উপকারে আসে সেজন্য সিটি কর্পোরেশন এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

তিনি বলেন, দিঘির মাঝখানে ভবন নির্মাণ করলে দিঘির পরিবেশ নষ্ট হবে না। এখানে বেড়াতে আসা মানুষদের কথা চিন্তা করে রেস্টুরেন্ট তৈরি করা হবে। তাই দিঘির মাঝখানে ৬০০ বর্গফুট আয়তনের একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হবে।

তবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, ধোপাদিঘীর মত ঐতিহ্যবাহী দিঘী ভরাট করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করলে দিঘী আরো সংকীর্ণ হয়ে পড়বে। এটা হবে দুঃখজনক। ইতিমধ্যে দিঘির জায়গায় ওসমানী শিশু উদ্যান, জামে মসজিদ ও রেড ক্রিসেন্টকে দেয়া হয়েছে। এখন ভাসমান রেস্তোরার নামে দিঘী ভরাটের যে চেষ্টা চলছে তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। দিঘীর দখলকৃত ও ভরাটকৃত জায়গা উচ্ছেদ করে ধোপাদিঘীকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানান এই পরিবেশ কর্মী।

এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দিঘীটি রক্ষা করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। মূলত দিঘি খনন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, পাড় বাধানো ও ঘাট তৈরি তৈরি করা হচ্ছে এ প্রকল্পের মূল কাজ।

দিঘীর মাঝখানে ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, কোন ভবন নির্মাণ নয়, দিঘী খনন করা ও ওয়াকওয়ে তৈরি করা হচ্ছে মূল কাজ। পরবর্তীতে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের সুবিধার্থে একটি ভাসমান রেস্টুরেন্ট তৈরির কথা থাকলেও প্রকল্পের স্কিমে তার উল্লেখ আছে কিনা তা জানা নেই। মূল স্কিম দেখে সার্বিক বিষয়ে বলা যাবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত