০১ মে, ২০১৮ ২৩:৪৮
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা কমিটির নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে এক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন বাদ পড়া ওই ভোটার।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মঈন উদ্দিন নামের ওই ভোটারের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে কলেজের অধ্যক্ষের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাঁর নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ মে শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের পরিচালনা কমিটির নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
বাদ পড়া ভোটারের অভিযোগ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ মে শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা কমিটির নির্বাচন উপলক্ষে গত ২৫ মার্চ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় এবং কলেজ শাখার পৃথকভাবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। কিন্তু প্রকাশিত কলেজ শাখার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং ৬ থেকে ৮ বছর আগে মৃত ব্যক্তিকে শিক্ষার্থীর অভিভাবক (পিতা) হিসেবে ভোটার তালিকাভুক্ত করার অভিযোগ ওঠে। কলেজ শাখার ২৪১ জনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা যায়, দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার, রোল ৭৮, অভিভাবক (পিতা) মঈন উদ্দিনের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নেই। অথচ খসড়া ভোটার তালিকার তৈরির জন্য শ্রেণীকক্ষ থেকে যে, তথ্য সংগ্রহ করা হয়, সে তালিকায় ভোটার হিসেবে মঈন উদ্দিনের নাম সবার প্রথমেই ছিলো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক শিক্ষক এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া চূড়ান্ত তালিকায় ভোটার নম্বর ১৬৫, ভোটার হিসেবে সিরাজ উদ্দিনের নাম ভোটার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। যদিও সিরাজ উদ্দিন ৬ থেকে ৮ বছর আগে মারা গেছেন। মৃত ব্যক্তি কিভাবে শিক্ষার্থীর অভিভাবক হিসেবে ভোটার তালিকাভুক্ত এবং কলেজে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীর অভিভাবক হলেন, এনিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠেছে।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের পরিচালনা কমিটির তিনবারের সাবেক সহসভাপতি মঈন উদ্দিন বলেন, ‘খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটার হিসেবে আমার নাম সবার প্রথমেই ছিলো বলে জেনেছি। কিন্তু প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আমার নাম কোথাও নেই। তিনি বলেন, অধ্যক্ষ নিজের ব্যক্তিগত ইচ্ছায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে আমার নাম বাদ দিয়েছেন।’
বাদ দেওয়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ আছে। গত ৬০ থেকে ৭০ বছর ধরে গাছগুলো প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস-ঐতিহ্য বহন করে আসছে। কিন্তু গত কয়েক মাস আগে অবকাঠামো উন্নয়নের নাম করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গাছগুলো কেটে বিক্রি করার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। আমি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। গাছগুলো রক্ষার দাবি জানিয়ে গত বছরের ৫ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি চিঠি পাঠাই। যার অনুলিপি হুইপ, জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে পাঠানো হয়েছে। গাছগুলো কেটে বিক্রি করার অভিযোগ ও বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় অধ্যক্ষ নিজে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে আমার নাম বাদ দিয়েছেন।’
এ বিষয়ে শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাছিত বলেন, ‘যথেষ্ট সচেতনভাবে ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। তারপরও এটা কিভাবে প্রিন্টিং মিসটেক হয়ে গেছে। নামটা ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়ার অভিযোগটা সঠিক নয়। ১১ মার্চ খসড়া ভোটার তালিকা তৈরি করে তা প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২৫ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি করে প্রকাশ হয়। নিয়ম হল খসড়া তালিকায় কারো নাম বাদ পড়লে লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো। কিন্তু তিনি (মঈন উদ্দিন) কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বাইরে বিভিন্নজনের কাছে বিভ্রান্তমূলক তথ্য প্রচার করেন। এটা জানার পর পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের প্রার্থীদের মতামত নিয়ে তালিকা সংশোধন করে বাদ পড়া ভোটারের নাম অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। আর তিনি খসড়া তালিকায় নাম থাকার যে অভিযোগ তুলেছেন তা সঠিক নয়।’
আপনার মন্তব্য