সিলেটটুডে ডেস্ক

০৩ মে, ২০১৮ ১৮:১৩

সিলেটে স্ট্যাম্প বিক্রয়ের কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি

স্ট্যাম্প ভেন্ডারদের স্ট্যাম্প বিক্রয়ের কমিশনের হার বৃদ্ধিসহ সাত দফা দাবিতে সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সিলেট জেলা স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমিতির নেতৃবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার (৩ মে) সকালে জেলা স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমিতির নেতৃবৃন্দ এই স্মারকলিপি প্রদান করেন।  

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল খালিক, সহ সভাপতি মো. খুরশেদ আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফ উদ্দিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন সাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস শহীদ দুলাল, অর্থ সম্পাদক সত্যেন্দ্র কুমার চন্দ, প্রচার সম্পাদক কাজী এ. কে. এম শামছুদ্দিন, সদস্য- মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. নাজমুল হোসেন, মো. বুরহান উদ্দিন ইকবাল, ঋষিকেশ পাল, ওহিদুল ইসলাম, সবিউল আলম সোহান, আ.ফ.ম রেজাউল কবির, বিজন দাস, মো. সিরাজুল ইসলাম, মো পিয়ার উদ্দিন আহমদ প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, স্ট্যাম্প ভেন্ডারদের স্ট্যাম্প বিক্রির উপর কমিশনের হার ১৮৯৯ সালে তদানীন্তন বৃটিশ আমলে যা নির্ধারণ করা হয়েছিল তা অদ্যাবধি বলবৎ রয়েছে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সবকিছুর দাম বৃদ্ধি হলেও প্রায় সোয়াশত বছর ধরে স্ট্যাম্প ভেন্ডারদের স্ট্যাম্প বিক্রির কমিশনের হার একটি পয়সাও বৃদ্ধি করা হয়নি। ফলে স্ট্যাম্প ভেন্ডারগণ সুবিধা বঞ্চিত হিসেব রয়েছেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, স্ট্যাম্প বিক্রির কমিশনের হার প্রধানমন্ত্রী শুনলে আশ্চর্য হবেন। যেমন ৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে জেলা শহরে ৩.৬৫%, মফস্বলে ৪.৬৯%, ১০০ টাকা মূল্যমানের নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে জেলা শহরে ১.৫%, মফস্বলে ২%।

এছাড়াও ১ টাকার মূল্যমানের কোর্ট ফি বিক্রি করলে .৯১% এবং ২ থেকে ২০ টাকা মূল্যমানের কোর্ট ফি বিক্রি করলে .৭৮% এবং ২৫ থেকে ৩০০ টাকা জুডিসিয়েল স্ট্যাম্পে ০.৫০% কমিশন সরকার স্ট্যাম্প ভেন্ডারদেরকে প্রদান করে। যা দিয়ে স্ট্যাম্প ভেন্ডারগণ পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে মানবিক দিক বিবেচনা করে স্ট্যাম্প ভেন্ডারগণ ৭টি দাবি পেশ করেন।  

দাবীগুলো হলো- (১) ৫ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে ৩.৬৫% ও ১.৫% স্থলে ১৫% এবং ১ টাকার মূল্যমানের কোর্ট ফি .৯১%, ২ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত .৭৮% ও ২৫ থেকে ৩০০ টাকা জুডিসিয়েল স্ট্যাম্পে ০.৫০% এর স্থলে ১৫% টাকা কমিশন স্ট্যাম্প ভেন্ডারদেরকে প্রদান, (২) সারাদেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সকল স্ট্যাম্প ভোন্ডারদের বসার স্থান স্থায়ী ও নিরাপদের লক্ষ্যে সেড নির্মাণ, (৩) ১৮৯৯ইং সালের স্ট্যাম্প আইনের বিধান অনুযায়ী ২ নম্বর আইনের ৭৪ ধারা মোতাবেক স্ট্যাম্প ভেন্ডার লাইসেন্স প্রদান এবং যত্রতত্র অবাধে স্ট্যাম্প ভেন্ডার লাইসেন্স প্রদান বন্ধ, (৪) স্ট্যাম্প ভোন্ডারগণকে বৃটিশ আমল থেকে ১২০০ টাকা মূল্যমান পর্যন্ত নন জুডিসিয়ার স্ট্যাম্প এবং ৩০০ টাকা পর্যন্ত জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প বিক্রয়ে ক্ষমতা প্রদান করেছে। উক্ত ক্ষমতা ১২০০ ও ৩০০ টাকার স্থলে ২০০০ টাকায় উন্নীত করণ, (৫) সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়ে স্ট্যাম্প ভোন্ডারগণ স্ট্যাম্প বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন বিধায় স্ট্যাম্প ভোন্ডারদের মাধ্যমে সকল প্রকার স্ট্যাম্প বিক্রি, (৬) লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্ট্যাম্প ভেন্ডারদের স্ট্যাম্প পরীক্ষার জন্য জেলা প্রশাসক প্রতিনিধি ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমিতির সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক সমন্বয়ে প্রতি জেলায় কমিটি গঠন এবং অবৈধ ও জাল স্ট্যাম্প বিক্রেতাগণের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ (৭) বাংলাদেশ স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি/ মহাসচিবকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবী জানান।

স্মারকলিপিতে দেশের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর অব্যাহত প্রচেষ্টাকে বাস্তব রূপ দিতে সিলেট তথা সারাদেশের স্ট্যাম্প ভেন্ডারদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিয়ে স্ট্যাম্প ভোন্ডারদেরকে মানবেতর জীবন যাপন থেকে উত্তরণে কমিশন বৃদ্ধি সহ অন্যান্য প্রস্তাব বাস্তবায়িত করতে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নেতৃবৃন্দ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত