নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ জুন, ২০২৫ ০৭:১২

জুলাইয়ে আগুন দেওয়ার কথা জানিয়ে আবারও বিটিভি দখলের হুঁশিয়ারি শফিকুর রহমানের

জুলাই আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভির ফটক ভেঙে ভেতরে গিয়ে গাড়িতে আগুন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মো. শফিকুর রহমান। তিনি জুলাই আন্দোলনের সময়ের একজন সক্রিয় কর্মী, এবং গাজীপুরের এক মাদ্রাসা শিক্ষক।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি নিজে এই তথ্য জানান।

তিনি সরকারের কাছে ১৮ জুলাইকে দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান।

তিনি জানান, সরকার যদি এই দিনটিকে রাষ্ট্রীয় দিবস হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়, তবে আবারও বিটিভি ভবন দখলে নিয়ে সাধারণ জনগণের দিবস হিসেবে ঘোষণা দেবেন। এই ক্যাপাসিটি তার রয়েছে বলে দাবি করেন।

মো. শফিকুর রহমান ফেসবুকে লেখেন:

"১৮ জুলাই ২০২৪ সর্বপ্রথম আমি মো: শফিকুর রহমান। রামপুরা বিটিভির তিন নম্বর গেইট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করি। ভেতরে থাকা মাইক্রোবাসে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেই। আমার ইচ্ছে ছিল বিটিভির ভবনের কন্ট্রোল রুম দখল করে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বিজয় ঘোষণা দেওয়ার। যাতে পুরো বাংলাদেশের জনগণ রাস্তায় নেমে আসতে সাহস পায়।

এই সরকার যদি ১৮ জুলাইকে দিবস হিসেবে ঘোষণা না দেয়। তাহলে আমি আবারও রামপুরা বিটিভির ভবন দখলে নিয়ে ১৮ জুলাইকে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি এবং সাধারণ জনগণের দিবস হিসেবে ঘোষণা করব ইন শা আল্লাহ। কারণ সেই ক্যাপাসিটি আমার আছে।

জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের ঘোষণা না দিলে আমরা আবারও রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হব।

যে গাড়িটা আগুনে পুড়ে দিয়েছিলাম সে গাড়ির নম্বর—১৫১৭৫৭"

এই স্ট্যাটাসের পর আরেকটা স্ট্যাটাস লেখেন মো. শফিকুর রহমান। তিনি লেখেন: "জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র ও সনদের আগে জুলাই ২০২৫ সালের সকল দিবসকে প্রত্যাখ্যান করুন।"

এদিকে, মো. শফিকুর রহমানের এই স্ট্যাটাসের পর অনেকেই তাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। শফিকুর রহমান তাদের সে সব স্ট্যাটাস নিজের টাইমলাইনে শেয়ারও করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ নামের একজন ফেসবুকে লেখেন: "আমি একজন লোককে চিনি যিনি জুলাই এর কারণে সব হারিয়েছেন।একজন মানুষের হারানোর জন্য জীবন বাদে যা যা থাকতে পারে সবই তাঁর হারানো গিয়েছে। সাজানো গোছানো সংসার নষ্ট হয়েছে, ওনার একটা মাদ্রাসা ছিল, সেই মাদ্রাসায় অনেক ছাত্ররা পড়তো,মাদ্রাসার বইয়ের পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের গল্প উপন্যাসের বই পড়াতেন।

জুলাইয়ের কারণে ওনার সেই সাজানো গোছানো মাদ্রাসাটা একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ওনি জুলাই এ আহত হয়েছেন, আহত হওয়ার পরেও কোন জায়গায় নাম লেখাননি। ওনি জুলাই এর সামনের সারির যোদ্ধা, ৫ আগস্ট হাসিনার পতন হওয়ার পরে তিনি অঝোরে কেঁদে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন। সেই লোকটার নাম মো. শফিকুর রহমান। ইন্টেরিম ওনারে মূল্য দিতে পারে নাই। আমাদের ভাই ব্রাদার রাজনীতিবিদরাও দিতে পারে নাই। আল্লাহ ওনার কাজের উত্তম প্রতিদান দিক।"

মাহমুদুল হাসান নামের একজন লেখেন: "জুলাই মাস অনেকের জীবনেই নিঃস্বতার ছাপ রেখে গেছে। আমি একজন মানুষকে চিনি, যার জীবনের সবকিছুই এই এক মাসের ধাক্কায় ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। সাজানো সংসার ছিল, ছিল আত্মমর্যাদায় গড়া একটা জীবন। নিজ হাতে গড়ে তোলা একটা মাদ্রাসা, সেখানে শুধু কিতাব পড়ানো হতো না, ছাত্রদের মানুষের মতো মানুষ করতেই তিনি গল্প-উপন্যাসের বইও হাতে তুলে দিতেন। সেই আলো ঝলমলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরজায় আজও তালা ঝুলছে। ছাত্র নেই, কণ্ঠস্বর নেই, আশার বাতি নিভে গেছে।

জুলাই মাসে তিনি আহত হয়েছিলেন-দেহে নয়, হৃদয়ে। তবু কোথাও নাম লেখালেন না, কারো কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলেন না। তিনি ছিলেন সেই জুলাইয়ের প্রথম সারির যোদ্ধাদের একজন। ৫ আগস্ট যখন এক শাসকের পতন ঘটল, তখন এই মানুষটা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। অঝোরে কেঁদে তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছিলেন- নীরবে, নিঃশব্দে। তাঁর নাম মাওলানা মো. শফিকুর রহমান। দুঃখজনক সত্য এই যে, ইন্টেরিম সরকার তাঁর প্রকৃত মূল্যায়ন করতে পারেনি। যাঁদের ত্যাগ আর শ্রমে নেতৃত্বের ভিত্তি নির্মিত হয়েছে, আমরাও কি তাঁদের ধীরে ধীরে ভুলে যাচ্ছি? আল্লাহ তাঁর রক্ত, ঘাম, চোখের জল ও নিঃস্বার্থ ত্যাগের জন্য তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।"

বিটিভিতে আগুন দেওয়ার স্ট্যাটাস দেওয়ার পর সেই স্ট্যাটাসের কমেন্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম কর্তৃক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিটিভিতে আগুনের অভিযোগ আনার একটা ভিডিও শেয়ার করে আল-আমিন রহমান নামের একজন লেখেন: "তাজুল তাহলে স্পষ্ট মিথ্যাচার করছে, বিটিভিতে আগুন দেওয়া আরেকজনের স্বীকারোক্তি।"

মো. আরিফুল ইসলাম কমেন্টে লেখেন: ''তাজুল স্যার তো লাইভে বললো শেখ হাসিনার নির্দেশে এগুলো হয়েছে। আপনি তো বললেন অন্য কথা!''

মো. আশিকুর রহমান নামের একজন শফিকুর রহমানের কমেন্টে লেখেন: "এভাবে ভাবলে তো জুলাইয়ের ক্ষতি হবে ভাই।' এই কমেন্টের জবাবে ডা. শারজিন নামের একজন লেখেন: 'কেনো ক্ষতি হবে? আমরা যা করছি তাইই বলতে হবে।"

সানি মহারথী নামের একজন লেখেন: "মিস্টার শফিক আরও বেশি কৌশলী হোন। পলিটিক্স বাচ্চাদের জন্য নয়। আপনার আজকের গর্ব ভবিষ্যতের জন্য আপনার বুমেরাং হবে। রাজনীতিতে শেষ বলে কোন কথা নেই। আপনাদের এনসিপি কেন অপাংক্তেয় হয়ে উঠবে জানেন? জনগণের ভাষা বুঝতে না পারা আর অনর্থক বাঁচালামোপনা। আপনার মাঠে থাকার রেকর্ড গর্বের। শেষ পর্যন্ত থাকতে পারাটাই হবে পলিটিক্সে টিকে থাকা। অহেতুক আবেগায়িত হয়ে ভুল পদক্ষেপ নিবেন না। বিটিভি রাষ্ট্রীয় সম্পদ। যেভাবেই আপনি দেখুন না কেন রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের জন্য আপনাকে দায়ী করে ভবিষ্যতে মোকদ্দমার মুখোমুখি করা হতে পারে। এ রকমটার সুযোগ থেকে যায় আপনার এই স্বীকারোক্তিমূলক স্ট্যাটাসের কারণে।"

আপনার মন্তব্য

আলোচিত