রাবি প্রতিনিধি

১৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ১৭:০৩

ক্যাম্পাসে বসন্তবরণ রাবির শিক্ষার্থীদের

আহা আজি এ বসন্তে, এত ফুল ফোটে, এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায়, আহা আজি এ বসন্তে। পহেলা ফাল্গুনে সারাদেশের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও প্রাণের উচ্ছ্বাসে বরণ করেছে ঋতুরাজ বসন্তকে।

বসন্তের প্রথম দিনে বাসন্তী রঙের শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে তরুণীরা মাথায় পড়েছে ফুলের মুকুট। আর সেই সঙ্গে গোলাপ, গাঁদা, ডালিয়াসহ বাহারি নামের বর্ণালী ফুলে ক্যাম্পাসের গাছেও যেন বসন্ত জানান দিচ্ছে খুব ভালোভাবেই। শীতের রিক্ততা মুছে প্রাণের স্পন্দনে একটু একটু করে জেগে উঠেছে প্রকৃতি, ঠিক তেমনি করে বসন্তের ফুলে সেজে উঠেছে মতিহারের সবুজ চত্বর।

বসন্ত যেন ধূলি ধূসরিত ক্যাম্পাসের বুকে এক টুকরো রঙের ছোঁয়া নিয়ে হাজির হয়েছে। ৬ রঙের চন্দ্রমল্লিকা, ৩ রঙের সেলভিয়া, ১৫ রঙের ডালিয়া, ৪ রঙের সাপারি গাঁদা, ইনকা গাঁদা, চায়না গাঁদা, দেশি গাঁদা, ৬ রঙের ক্যারেনডেলা, ৪ রঙের স্টার, শ্যালোশিয়া (মোরগ ফুল), ৭ রঙের স্নো বল ও ৩ রঙের প্রিটনি, প্রিটনি হাইব্রিড, জিনিয়া, কসমস, হাইবিট, কামিনিসহ প্রায় ৪০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুল স্থান পেয়েছে এ ক্যাম্পাসে।

এদিকে বসন্তকে বরণ করে নিতে ফাগুনের প্রথম প্রহরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসবের। চারুকলার মুক্তমঞ্চে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। একপাশে পিঠার স্টলগুলো সারিতে সারিতে সাজানো। সেগুলোতে সাজানো রয়েছে ভিন্ন রঙ ও স্বাদের পিঠা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দলবেঁধে তরুণ-তরুণীরা ভিড় করে সেখানে। অনেকে এসেছেন প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে।

শুধুমাত্র ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরাই নয়। বাইরের তরুণ-তরুণীরাও ক্যাম্পাসের নানা অনুষ্ঠানে এসে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। বসন্ত বরণ করে নিতে ক্যাম্পাসে শোভাযাত্রা বের করে শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট আয়োজন করে শোভাযাত্রা, প্রীতিভোজ ও সাংস্কৃতিক আড্ডার। নানা আয়োজনে বসন্তকে বরণ করে নিয়েছে সংগীত বিভাগ, ফোকলোর বিভাগ ও বাংলা বিভাগ। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে রাবি কোয়ান্টাম ম্যাথড দিনব্যাপী চিত্রকলা প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ক্যাম্পাসের প্রথম বসন্তবরণে তাদের মাঝে দেখা দিয়েছে আলাদা প্রাণচাঞ্চল্য। পাঞ্জাবি-শাড়ি পরে বন্ধুরা মিলে পুরো ক্যাম্পাস দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হই-হুল্লোড় করে।

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এনামুল বলেন, ‘এত সুন্দর সাজে বিশ্ববিদ্যালয়ে পহেলা ফাল্গুন পালন করা হয় আগে জানতাম না। গ্রামে এরকমটা হয় না।’

আরেক শিক্ষার্থী মিম বলেন, ‘আমার খুব ভালো লাগছে। বসন্তবরণের জন্য আমি শাড়ি কিনেছি। আজ সারাদিন সবাই মিলে খুব আনন্দ করছি।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত