১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:২১
মধ্যপ্রাচ্য অস্থিরতায় নতুন শ্রমবাজার খুঁজছে সরকার, এমনিাট জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, মালয়েশিয়া, জাপানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষিত লোকবল প্রেরণের চেষ্টা অব্যাহত আছে ।
তিনি বলেছন, মধ্যপ্রাচ্যের শ্রম বাজার বন্ধ থাকায় অন্যদেশগুলোতে শ্রম বাজার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খোলার আশা করছে সরকার।
শুক্রবার দুপুরে সিলেটে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এমনটি বলেন তিনি।
দুপুরে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে কারিগরি শিক্ষার্থীদের মেধা অন্বেষণমূলক আয়োজন ‘স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’-এ প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী। এই অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তিনি।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে শ্রম ও প্রবাসীকল্যান মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার নানান ভাবে প্রশিক্ষণের আয়োজন ও পরিকল্পনা করছে। এজন্য সরকারকে আরও সময় দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, জাপান-কুরিয়ায় শ্রমবাজারের দোয়ার খুলতে ইতিমধ্যে জাপানের ভাষা শিক্ষার জন্য শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার খুলবে।
মন্ত্রী আরোও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পরও সরকার সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে দ্রুত সম্ভব ছেলে-মেয়েদের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে গড়ে তুলতে।
সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন ‘এসেট (ASSET)’ প্রকল্পের এ আয়োজনে আঞ্চলিক দক্ষতা ও উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় সিলেট বিভাগের ১৪টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ৪২টি উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে অংশগ্রহণকারী তরুণদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা শেষে জাতীয় পর্যায়ে মোট ৫০টি নির্বাচিত উদ্ভাবনী প্রকল্প হতে চূড়ান্ত পর্বে তিনটি প্রকল্প বাছাই করা হবে।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে মন্ত্রী বলেন, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে গেলে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। চাহিদা থাকলেও দক্ষ শ্রমিকের অভাব রয়েছে দেশে।
পুরাতন সকল কলকারখানা চালু করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। দেশকে এগিয়ে নিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রী অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।
এদিকে, সন্ধ্যায় জেলা পরিষদের উদ্যোগে শতাধিক অসহায়, দুস্থ ও জুলাই যোদ্ধাসহ পিছিয়ে পড়া মানুষের হাতে আর্থিক সহায়তা প্রধান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আরিফুল হক চৌধুরী
এতে তিনি বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। জেলা পরিষদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস প্রান্তিক মানুষের অভাব দূর করতে এবং তাদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে। আমরা চাই প্রতিটি নাগরিক যেন রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধার সুফল পায়।
জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপমা দাস ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামারুজ্জামান মাসুমের যৌথ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ কুমার সিংহ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলম, বক্তব্য রাখেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ আহমদ চৌধুরী, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিমসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দরা।
সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রবাসীকল্যান বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের বাছাই করে এই অনুদান দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসা এবং সামাজিক কল্যাণের কথা বিবেচনা করে এই তালিকায় দুই শতাধিক মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং জেলা পরিষদের এই মানবিক কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন। সিলেট জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল থেকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
আপনার মন্তব্য