৩০ মে, ২০২৬ ১৪:১৬
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচিত্রের প্রদর্শনী স্থগিত করা হয়েছে। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রত্যাহার এবং প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে প্রদর্শনী স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে আয়োজক সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৩টায় জেলা শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিরোধিতা শুরু হলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার (২৯ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ঘোষণায় জানানো হয়, বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি নেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে প্রদর্শনী আয়োজন সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে নতুন ভেন্যু নির্ধারণ করে প্রদর্শনীর নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির সদস্য এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তওজা খন্দকার জানান, গত ২৫ মে চলচ্চিত্রটির পরিচালক তানিম নূরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রদর্শনীর অনুমতি নেওয়া হয়। পরে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। কিন্তু কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা হাফেজ নাসরুল্লাহ মুয়াজ তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ‘আলেম-ওলামার শহর’ হিসেবে পরিচিত। শহরের ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে এ ধরনের আয়োজন বন্ধ রাখা প্রয়োজন বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
ঘটনার বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরে মন্তব্য করবেন।
অন্যদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনুমতি দেননি। তার ভাষায়, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিনেমা প্রদর্শনের প্রশ্নই ওঠে না।’
আপনার মন্তব্য