নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ জুলাই, ২০২৬ ০০:৪৬

রাস্তায় পানি জমায় এক ভোটার জামায়াতের আমিরকে ক্ষুব্ধ হয়ে গালিগালাজ করেছেন: রাশেদ খান

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা, জলাবদ্ধতা এবং জনদুর্ভোগ সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ জামায়াত নেতাদের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খান।

সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ভূমিকার সমালোচনা করার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে বিএনপি নেতা ও সরকারের তৎপরতার চিত্র তুলে ধরেন।

স্ট্যাটাসে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, “জামায়াতের আমির চট্টগ্রামে গিয়ে পানিতে নামলেন, পাঞ্জাবি খুলে ফেললেন। কিন্তু তার নিজ আসনে তিনি রিকশা থেকে নামলেন না, পাঞ্জাবিও খুললেন না, চকলেট খেতে কারও হাতে ১ হাজার টাকার নোট গুঁজেও দিলেন না! বরং একজন ভোটার তাকে রাস্তায় পানি জমার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে গালিগালাজ করল, তিনি এরপরও হাসতে হাসতে হাত নাড়তে নাড়তে বিদায় নিলেন! তার সাথে কথা বলার প্রয়োজন মনে করলেন না! ”

তিনি জামায়াত আমিরের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে আরও বলেন, “আমিরের এসব দেখে মনে হচ্ছে, তিনি ভোটের প্রচারণা করতে গেছেন! আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে যেহেতু তার এলাকার উন্নয়নের সব দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছেন, এখানে তার পানিতে না নামলেও চলবে! জামায়াতের উত্তরের মেয়র প্রার্থী জনাব সেলিম উদ্দিনও ভ্যানগাড়িতে চড়ে হাত নাড়ানাড়ি করে বেড়াচ্ছেন। এসব করে তারা ফেসবুকে প্রচার করছেন যে, আমরা জনগণের কাছে গেছি। জনগণের কাছে গিয়ে হাসিমুখে হাত নাড়লেই কি পানি নেমে যাবে আর জনগণের কষ্ট লাঘব হয়ে যাবে? এতো কষ্ট বুঝলে এই পানি নিষ্কাশন ও ময়লা পরিষ্কারে নেমে যান। কিন্তু তা করবেন না। করবেন শুধু সমালোচনা আর ফুটেজবাজি!”

জামায়াত নেতাদের সমালোচনার পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও সরকারের মন্ত্রীদের তৎপরতার কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “এদিকে বিএনপির ঢাকা উত্তরের প্রশাসক জনাব শফিকুল ইসলাম মিল্টন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ছাত্রদল যুবদলের পোলাপান নিয়ে পানি নিষ্কাশনে নেমে গেছেন। হ্যাঁ, এটা তার দায়িত্বও বটে। দক্ষিণের প্রশাসকও কাজ করছেন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জনাব মীর শাহে আলম নিজেও গাবতলিতে জলাবদ্ধ এলাকায় গেছেন। সামগ্রিক বিষয়গুলো তদারকি করছেন ও সারাদেশের প্রশাসকদের নিয়মিত নির্দেশনা দিচ্ছেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়মিত আপডেট প্রদান করছেন। ”

তিনি দাবি করেন, “শুধুমাত্র চেহারা দেখালে আর জামাকাপড় খুলে ফেললেই মানুষের কষ্ট লাঘব হবেনা। পানি নিষ্কাশনে যা করণীয় সবকিছু সরকার প্রধানের নির্দেশনায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রশাসক, মেয়র, স্থানীয় এমপিরা করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশেও বিএনপি দলগতভাবে ও সরকারিভাবে দাঁড়াচ্ছে ও সবার জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করবে, ইনশাআল্লাহ।”

বিএনপি নেতাদের কাজের প্রচারের অভাব নিয়ে এক ধরনের আক্ষেপ ও আহ্বান জানিয়ে স্ট্যাটাসের শেষ অংশে রাশেদ খান লেখেন, “দেখেন, বিএনপির এমপি-মন্ত্রীদের সমস্যা ফুটেজ খেতে জামাকাপড়, পাঞ্জাবি খুলতে পারে না, তারা শুধু নীরবে নিভৃতে কাজ করতে জানে। কিন্তু তাদের বোঝা উচিত ভাইরাল না হতে পারলে জনগণের চোখে কাজ দৃশ্যমান হবে না। তাই আমি সবার প্রতি আহ্বান করব, কাজ কম করলেও একটু ফুটেজবাজিও করবেন, মিডিয়া ডাকবেন, ভিডিও করে প্রচার করবেন, নতুবা আমরা টকশোতে গিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি, জামায়াতের আমির থেকে নেতারা তো কোমর সমান জলে নামল, পাঞ্জাবি খুলল, আপনাগো কোন মন্ত্রীকে এমপিকে তো শার্ট খুলে জলে নেমে কাঁদা মাখতে দেখলাম না! অথচ সবার আগে চট্টগ্রামের বিএনপির এমপিরা বৃষ্টিতে ভিজে মানুষের কাছে ছুটে গেছে! সেগুলো মিডিয়াতে আসেনি...”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত