১৪ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩৭
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে কথিত কটূক্তির প্রতিবাদে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভকে ‘পরিকল্পিত’ ও ‘উসকানিমূলক’ বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খান।
মঙ্গলবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই আন্দোলনের পেছনে ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন।
রাশেদ খান তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, “শিবিরের কোচিং সেন্টারে যেসব শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়ে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সেসকল শিক্ষার্থীদের একপ্রকার উস্কানিতে দিয়ে মাঠে নামানো হয়েছিল। পাশাপাশি অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীও বিভ্রান্ত হয়ে মাঠে নেমেছিল। আমি মনে করি, এটা একটা পরিকল্পিত আন্দোলন। বিশেষ করে আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শিবির এই নোংরামি করেছে। শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছিল সাইন্সল্যাবে, কিন্তু এদেরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢুকিয়ে একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল শিবির।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছাত্রদলের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আমি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ভাইকে ধন্যবাদ জানাই যে, তিনি পরিস্থিতি বুঝতে পেরে শিক্ষার্থীদের সাথে গিয়ে কথা বলেছেন এবং তাদের বোঝাতে চেষ্টা করেছেন।”
একই সাথে তিনি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধেও গুজব ছড়ানোর অভিযোগ এনে বলেন, “আজকে যে শিবির নোংরা প্লান হাতে নিয়েছিল, তা এখন মোটামুটি পরিষ্কার। আবার ছাত্রলীগও ছাত্রদলকে নিয়ে নানাধরনের গুজব ছাড়িয়েছে যে, ছাত্রদল নাকি শিক্ষার্থীদের ধরে ধরে পেটাচ্ছে। এমনকি শিক্ষার্থীদের বিক্ষুব্ধ করতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিডিও ছবিও ছড়িয়েছে ছাত্রলীগ। সবমিলিয়ে আজকে শিবির-ছাত্রলীগের যৌথ প্রযোজনায় একটি ব্যর্থ আন্দোলন সংগঠিত হলো। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে এই রাজনীতি বুঝতে পেরে ঘরে ফিরে গেছে। আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।”
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, “আমি সম্মানিত অভিভাবকদের বলব, সন্তানকে পড়ার টেবিলে বসান। প্রশ্ন সহজ হোক আর কঠিন হোক, বই থেকেই হবে। আপনার সন্তানের ব্রেনকে বিএনপি সরকার নষ্ট হতে দিবে না। ১৬ বছরে শিক্ষার্থীদের মেধা ধ্বংসের অপচেষ্টা ছিল। কিন্তু বিএনপির লক্ষ্য মেধাবী প্রজন্ম তৈরি করা। আর জামায়াত-শিবিরের লক্ষ্য আপনার সন্তানকে বিভ্রান্ত করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া।”
এদিকে, রাশেদ খানের এমন রাজনৈতিক বক্তব্যের বিপরীতে মাঠের চিত্র ছিল বেশ উত্তপ্ত। টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে কটূক্তি করার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দিনভর বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কেবল রাজধানী ঢাকাই নয়, দেশের আরও কয়েকটি জেলায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। “তুমি কে, আমি কে—ফার্মের মুরগি”, “কে বলেছে, কে বলেছে—শিক্ষামন্ত্রী”, “দফা এক, দাবি এক—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ”।
বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা বন্যা ও দুর্যোগ পরিস্থিতির সমাধানসহ ৩ দফা দাবি ঘোষণা করেছেন:
১. দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে।
২. বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেসব পরীক্ষার্থী ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে পদত্যাগ করতে হবে।
আপনার মন্তব্য