১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:২০
প্রতীকী ছবি
মহালয়ায় দেবীকে আবাহনের পর গতকাল বৃহস্পতিবার পঞ্চমীর সন্ধ্যায় বোধন সম্পন্ন হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসবের।
দুর্গা শব্দের অর্থ হলো ব্যূহ বা আবদ্ধ স্থান। যা কিছু দুঃখ কষ্ট মানুষকে আবদ্ধ করে, যেমন বাধাবিঘ্ন, ভয়, দুঃখ, শোক, জ্বালা, যন্ত্রনা এসব থেকে তিনি ভক্তকে রক্ষা করেন। শাস্ত্রকাররা দুর্গার নামে অন্য একটি অর্থ করেছেন। দুঃখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায় তিনিই দুর্গা। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাঁকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন।
হিন্দু পূরাণ মতে দুর্গাপূজার সঠিক সময় হলো বসন্তকাল কিন্তু বিপাকে পড়ে রামচন্দ্র, রাজা সুরথ এবং বৈশ্য সমাধি বসন্তকাল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে শরতেই দেবিকে অসময়ে জাগ্রত করে পূজা করেন। সেই থেকে অকাল বোধন হওয়া সত্ত্বেও শরত কালে দুর্গাপূজা প্রচলিত হয়ে যায়।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘোটকে বা ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঘোড়ায় আগমনের ফল হিসেবে সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রাকৃতিক ক্ষেত্রে অস্থিরতা, যুদ্ধবিগ্রহ এবং শস্যহানির আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, নৌকায় গমনের ফল হিসেবে শস্যবৃদ্ধি ও জলপ্লাবনের ইঙ্গিত রয়েছে।
তিথি অনুযায়ী, আজ মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। ভক্তদের প্রার্থনা, পূজা-অর্চনা ও নানা আয়োজনে মুখর হয়ে উঠবে মণ্ডপগুলো। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় দেবীর আরাধনায় মিলিত হবেন ভক্তরা।
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়। তবে এবার মহাসপ্তমীর তিথি দুই দিন পড়ায় পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছয় দিন ধরে চলবে। সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল শনিবার মহাসপ্তমী, রোববার অধিক তিথিতে মহাসপ্তমীর পূজা, সোমবার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা এবং মঙ্গলবার মহানবমীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনে সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। পুলিশ, আনসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), এসআরবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকরা নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ছুটি থাকছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আপনার মন্তব্য