০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৩:২৪
ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যার মাত্র ৭৯ দিনের মাথায় ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তাবেষ্টনীর ভেতরে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতা। গুলি ও বেয়নেটের আঘাতে হত্যা করা হয় মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, স্বাধীন বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে।
স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায়।
১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এই চার নেতা। তাদের নেতৃত্বেই গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সংগঠিত করা, আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় এবং যুদ্ধ পরিচালনার প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলায় তাদের অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জাতীয় চার নেতাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। এর প্রায় আড়াই মাস পর ৩ নভেম্বর ভোরে সশস্ত্র একদল লোক কারাগারে প্রবেশ করে তাদের একটি কক্ষে একত্র করে গুলি চালায়। পরে বেয়নেট দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগারের ভেতরে চার শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার এমন হত্যাকাণ্ড দেশকে গভীর শোক ও রাজনৈতিক সংকটে ফেলে।
জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনায় ১৯৭৫ সালের ৪ নভেম্বর তৎকালীন কারা উপমহাপরিদর্শক কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত থেমে ছিল ২১ বছর। ১৯৯৬ সালের জুন মাসে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। ২৯ বছর পর ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. মতিউর রহমান রায় ঘোষণা করেন। বিচারিক আদালত রায়ে রিসালদার মোসলেম উদ্দিন (পলাতক), দফাদার মারফত আলী শাহ (পলাতক) ও এলডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধাকে (পলাতক) মৃত্যুদণ্ড দেন। এ ছাড়া সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদসহ ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ও তাহেরউদ্দিন ঠাকুরকে এই মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতেও মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। তবে সাজাপ্রাপ্ত কয়েকজন এখনো পলাতক থাকায় তাদের দণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবছর দিনটি উপলক্ষে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জেল হত্যা দিবস বা জাতীয় চার নেতাকে হত্যার এই দিনটি জাতীয়ভাবে পালিত হয় না।
আপনার মন্তব্য