০৮ জুলাই, ২০২৫ ১০:৩৯
বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার থেকে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে ২৫% হারে উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হবে। এটি চলতি বছরের শুরুতে তার ঘোষিত বাণিজ্য যুদ্ধের নতুন ধাপ।
এই ১৪ দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সার্বিয়া, থাইল্যান্ড, তিউনিসিয়া, মালয়েশিয়া, কাজাখস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস এবং মিয়ানমার। খবর রয়টার্সের।
এই দেশগুলোর জন্য নির্দিষ্ট শুল্ক হার ভিন্ন, যেমন তিউনিসিয়া, মালয়েশিয়া ও কাজাখস্তানের জন্য ২৫%, দক্ষিণ আফ্রিকা ও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার জন্য ৩০%, ইন্দোনেশিয়ার জন্য ৩২%, সার্বিয়া ও বাংলাদেশের জন্য ৩৫%, এবং কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, লাওস ও মিয়ানমারের জন্য ৩৬% থেকে ৪০%।
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো মূল মিত্র দেশগুলোর সব পণ্যের উপর ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণায় ওয়াল স্ট্রিটে ধাক্কা লেগেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক (.SPX) উল্লেখযোগ্যভাবে পড়ে গেছে, যদিও এশিয়ার বাজারগুলো এই খবরে ততটা প্রভাবিত হয়নি।
১৪ দেশে চিঠি, প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি
ট্রাম্প এ পর্যন্ত ১৪টি দেশকে চিঠি পাঠিয়েছেন, যার মধ্যে সার্বিয়া, থাইল্যান্ড, তিউনিসিয়ার মতো ছোট রপ্তানিকারক দেশও রয়েছে। চিঠিতে আলোচনার সুযোগের ইঙ্গিত দেওয়া হলেও প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত চিঠিতে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “যদি আপনারা শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, তবে যে হারে বাড়াবেন, তা আমাদের ২৫% শুল্কের সঙ্গে যোগ হবে।”
এই শুল্ক ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে এবং গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো পূর্বঘোষিত খাতভিত্তিক শুল্কের সঙ্গে এটি যুক্ত হবে না। উদাহরণস্বরূপ, জাপানি গাড়ির উপর শুল্ক ২৫% থাকবে, পূর্বের ২৫% শুল্ক ৫০%-এ রূপান্তরিত হবে না।
সময়সীমা বাড়লেও অনিশ্চয়তা
ট্রাম্প এপ্রিলে বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধ ঘোষণার পর থেকে আর্থিক বাজারে অস্থিরতা চলছে। সোমবার তিনি একটি নির্বাহী আদেশে আলোচনার সময়সীমা বুধবার থেকে বাড়িয়ে ১ আগস্ট পর্যন্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আমি বলব সময়সীমা নির্দিষ্ট, তবে ১০০% নয়। যদি তারা ভিন্নভাবে কিছু করতে চায়, আমরা তা শুনতে প্রস্তুত।”
দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য শুল্ক হার পূর্বঘোষিত হারের মতোই রয়েছে, তবে জাপানের জন্য এটি ২ এপ্রিল ঘোষিত হারের তুলনায় ১% বেশি। এপ্রিলে ট্রাম্প সব পারস্পরিক শুল্ক ১০%-এ সীমাবদ্ধ করেছিলেন, যা বুধবার পর্যন্ত কার্যকর ছিল। এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনামের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে, এবং জুনে ওয়াশিংটন ও বেইজিং শুল্ক হার নিয়ে একটি কাঠামোতে সম্মত হয়েছে।
মিত্র দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ডি কাটলার বলেন, “ট্রাম্পের এই শুল্ক বৃদ্ধি দুঃখজনক, তবে আলোচনার জন্য এখনো সময় আছে। খেলা এখনো শেষ হয়নি।”
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা মঙ্গলবার বলেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৩৫% শুল্ক এড়াতে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১ আগস্টের নতুন সময়সীমার মধ্যে আলোচনা ত্বরান্বিত করার প্রস্তাব দিয়েছে, এবং জাপানের প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করে চিঠির বিষয়বস্তু সংশোধন করা যেতে পারে।”
দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা জোরদার করবে এবং ট্রাম্পের সর্বশেষ পরিকল্পনাকে পারস্পরিক শুল্ক কার্যকরের সময়সীমা বাড়ানো হিসেবে বিবেচনা করছে। দেশটির শিল্প মন্ত্রণালয় বলেছে, “আমরা অবশিষ্ট সময়ে পারস্পরিক সুবিধাজনক ফলাফলের জন্য আলোচনা ত্বরান্বিত করব।”
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেন, মার্কিন পণ্যের ৭৭% শুল্কমুক্তভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশ করলেও ৩০% শুল্ক আরোপ অযৌক্তিক। তার মুখপাত্র জানান, সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে।
বাজারে প্রভাব
ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণায় মার্কিন শেয়ার বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ০.৮% পড়ে গেছে। জাপানি গাড়ি নির্মাতা টয়োটা মোটরের শেয়ার ৪% এবং হোন্ডা মোটরের শেয়ার ৩.৯% কমেছে। জাপানি ইয়েন ও দক্ষিণ কোরিয়ার ওয়ানের বিপরীতে ডলারের মান বেড়েছে।
অ্যানেক্স ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রায়ান জ্যাকবসেন বলেন, “শুল্ক নিয়ে আলোচনা বাজারের গতি কেড়ে নিয়েছে। তবে বেশিরভাগ শুল্ক হার কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং চিঠিগুলো ‘নাও বা ছাড়ো’ ধরনের প্রস্তাব বলে মনে হচ্ছে।”
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান
ইইউ সূত্র জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন উচ্চ শুল্কের চিঠি পায়নি। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লিয়েন এবং ট্রাম্পের মধ্যে “ভালো আলোচনা” হয়েছে এবং ইইউ বুধবারের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করছে।
ব্রিকস দেশগুলোর প্রতি হুঁশিয়ারি
ট্রাম্প ব্রাজিলে ব্রিকস গ্রুপের নেতাদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আমেরিকা-বিরোধী” নীতি গ্রহণ করলে তাদের উপর অতিরিক্ত ১০% শুল্ক আরোপ করা হবে। ব্রিকস গ্রুপে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীনসহ অন্যান্য দেশ রয়েছে।
আপনার মন্তব্য