সিলেটটুডে ডেস্ক

২৭ আগস্ট, ২০১৯ ১৮:১৫

কৃষ্ণের বাঁশির সুর শুনলে গরু বেশি দুধ দেয়: বিজেপি এমপি

আসাম থেকে নির্বাচিত ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক আইনপ্রণেতা দাবি করেছেন, হিন্দু দেবতা কৃষ্ণের বাঁশির সুর শুনলে গরু বেশি দুধ দেয়। বরাক উপত্যকার শিলচর থেকে নির্বাচিত দিলিপ কুমার পাল শনিবার নিজ এলাকার একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেছেন। মঙ্গলবার এই মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দলটির আইনপ্রণেতা নিজের বক্তব্য সঠিক দাবি করে বলেন, বিজ্ঞানও এই বিষয়টি প্রমাণ করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু পাচার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

দিলিপ কুমার পালের মন্তব্য বিতর্কিত হলেও ২০০১ সালে ইংল্যান্ডের লেইচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই মনোবিদের গবেষণায় গরুর দুধ দেওয়ার সঙ্গে সংগীতের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে। ওই গবেষণায় বলা হয়, দ্রুত লয়ের সংগীতের তুলনায় কোমল লয়ের সুর শুনলে গরু তিন শতাংশ বেশি দুধ দেয়।

শনিবারের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দিলিপ কুমার পালের মন্তব্যে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘আমি সেখানে উপস্থিত মানুষকে নাচ ও গানের ইতিবাচক প্রভাবের বিষয়ে বলেছিলাম। আর বলেছিলাম কীভাবে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, গরু যদি দেবতা কৃষ্ণের বাঁশির মতো সুর শোনে তাহলে তাদের দুধ উৎপাদন বেড়ে যায়’।

কোন গবেষণার ভিত্তিতে তিনি এই দাবি করেছেন জানতে চাইলে এই বিজেপি নেতা জানান, গুজরাটভিত্তিক একটি এনজিও’র কয়েক বছর আগে কিছু গবেষণা করেছিল, তাতে বাঁশির সুর ও গরুর দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির সম্পর্কের কথা বলা হয়েছিল।

আসামের বাংলাভাষী এই আইনপ্রণেতা বলেন, আমি বিজ্ঞানী নই কিন্তু ভারতীয় ঐতিহ্য গবেষণার বিপুল জ্ঞান নিয়ে বলছি, আমার দাবি সত্য আর এখনকার বিজ্ঞানীরা এই ধারণায় বিশ্বাস করা শুরু করেছেন।

ভারতীয় ও বিদেশি সংকর জাতের গরুর পার্থক্যের বিষয়ে বিজেপি আইনপ্রণেতা দিলিপ কুমার পাল বলেন, ‘বিদেশি সংকর জাতের গরু খাঁটি সাদা দুধ দেয়। তুলনায় ভারতীয় গরুর দুধ;  যা হালকা হলুদ রঙের তা আরও অনেক বেশি সুস্বাদু আর স্বাস্থ্যকর। ভারতীয় গরুর দুধ থেকে উৎপাদিত পনির, মাখনও বিদেশি সংকর গরু থেকে ভালো’।

আসাম, মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ভারতীয় গরু পাচার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন দিলিপ কুমার পাল। পাচার বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি। আসাম বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার দিলিপ কুমার পাল বলেন, গরুকে আমরা গো-মাতা বলি। কিন্তু প্রতিবছর হাজার হাজার গরু বাংলাদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এটা বন্ধ হওয়া উচিত।

প্রসঙ্গত, গরুকে কেন্দ্র করে সহিংসতা-হত্যাযজ্ঞ আর গরু বন্দনা ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বের জন্য নতুন কিছু নয়। গত মাসে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ সিং সেই বন্দনায় নতুন মাত্রা যোগ করেন। তিনি দাবি করেন, গরুই একমাত্র প্রাণি যে অক্সিজেন গ্রহণের পাশাপাশি বাতাসে অক্সিজেন ছাড়ে। তার এ সংক্রান্ত ভাষ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে সমালোচনা শুরু হয়।

দিলিপ কুমার পাল দীর্ঘ সময় বিজেপি’র আদর্শিক সংগঠন আরএসএস’র সমর্থক ছিলেন। বাংলাভাষী অধ্যুষিত আসামের বরাক উপত্যকা থেকে নির্বাচিত ১৫ আইনপ্রণেতার অন্যতম তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত