নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ মে, ২০২৬ ০১:৩২

সিলেটের ঘড়িঘর প্রাঙ্গণে আজ নারী নিপীড়নবিরোধী পথনাটক ‘রেফারি’

৪ বছরের শিশুকন্যা ফাহিমা, কিংবা ৭ বছরের শিশুকন্যা রামিসা, নামোল্লেখ করা আর না-করা অসংখ্য অগণন শিশু; ছেলে কিংবা মেয়ে—আহ, কাকে রেখে কার কথা বলা যায়! তারা শিশু। সুকান্তের কবিতায় উঠে আসা তাদের অধিকার— “এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান...”। না, আমাদের সমাজ শিশুদের অধিকার, বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে তাদের জন্যে স্থান ছেড়ে দিচ্ছে না। উলটো শিশুদেরকেই পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিচ্ছে। যে শিশুর গল্প হতে পারতো মানবিক-সামাজিক, সে শিশুদের নিয়ে গল্প তৈরি হচ্ছে পাশবিক, নির্মম ও হিংস্রতার।

দেশের নানা জায়গায় চলমান সহিংসতা, নারী-শিশুর মৃত্যুতে প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সিলেটে ‘নগরনাট’ নামের সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করেছে পথনাটক।

আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকাল ৫টায় সিলেট নগরের সুরমা নদীর পাড়স্থ কিনব্রিজ এলাকায় ঘড়িঘর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে নারী নিপীড়নবিরোধী পথনাটক ‘রেফারি’।

রেফারি নাটকের রচয়িতা প্রয়াত নাট্যকার মান্নান হীরা। এ নাটকের নির্দেশনা দেবেন অরূপ বাউল।

অরূপ বাউল বলেন, সংস্কৃতিকর্মী হিসেবেই কেবল নয়, একজন নাগরিক হিসেবে আমাদের সকলের উচিত চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে প্রতিবাদী হওয়া। এ সমাজ ক্রমে শিশুদের জন্যে, নারীদের জন্যে বাস-অযোগ্য হয়ে উঠছে। সর্বগ্রাসী এই প্রবণতা রুখে দিতে হবে।

তিনি বলেন, সমাজে যে হারে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে, এটা এভাবে চলতে থাকলে আমরা ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে ধাবিত হবো। কিন্তু মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশ কখনই ব্যর্থ হতে পারে না।

অরূপ বাউল আরও বলেন, শরীর বোঝার আগে শারীরিক নির্যাতন-ধর্ষণ, চিকিৎসা বোঝার আগে চিকিৎসাবিহীন মৃত্যু— অথচ গল্পটা এমন হওয়ার কথা ছিল না। এটা চলা উচিত না, এসব চলতে দেওয়া উচিত না।

‘রেফারি’ বা বিচারক চরিত্রটির মাধ্যমে সমাজের বিদ্যমান বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং সুবিচারের অভাবকে প্রতীকীভাবে ফুটিয়ে তোলার যে প্রয়াস, এর দ্বারা মানুষের মধ্যে জাগরণ বৃদ্ধি পাবে, বলেন তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত