২৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০৯:৪৫
GETTY IMAGES
লন্ডনে পরিবহন কর্তৃপক্ষ অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সি সার্ভিস উবারকে নতুন করে লাইসেন্স দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উবার বারবার ব্যর্থ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দু'বছর আগেও এই শহরে উবারের লাইসেন্স একবার বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু পরে তাদেরকে ব্যবসা পরিচালনার জন্যে আরও দু'বার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত রোববার এবং তারপরেই কর্তৃপক্ষের তরফে এই সিদ্ধান্ত এলো।
উবার বলছে, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে এবং আপিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের চালকরা রাস্তায় গাড়ি চালাতে পারবেন।
বিশ্বের যতোগুলো শহরে উবারের সার্ভিস চালু আছে সেই তালিকার পাঁচ নম্বরে আছে লন্ডন এবং এই শহরে প্রায় ৪৫ হাজার চালক উবারের হয়ে গাড়ি চালান।
উবারের মোট আয়ের ২৪% আসে এই পাঁচটি শহর থেকে। অন্যান্য শহরগুলো হচ্ছে লস অ্যাঞ্জেলস, নিউ ইয়র্ক, সান ফ্রান্সিসকো এবং সাও পাওলো।
লন্ডনে প্রাইভেট হায়ার ও ব্ল্যাক ক্যাব মিলিয়ে মোট এক লাখ ২৬ হাজার গাড়ি ট্যাক্সি সার্ভিস দিয়ে থাকে।
ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন বা টিএফএল বলছে, যাত্রীদের নিরাপত্তার ব্যাপারে তারা উবারের ব্যর্থতার একটি ধরন বা প্যাটার্ন খুঁজে পেয়েছেন যার ফলে যাত্রীদের নিরাপদে চলাচল করা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
তারা বলছেন, উবারের সিস্টেমে এমন কিছু ঘাটতি রয়েছে যার ফলে অনিবন্ধিত চালকরাও উবারের চালকদের অ্যাকাউন্টে নিজেদের ছবি আপলোড করে গাড়ি চালাতে পারেন।
টিএফএল বলছে, ২০১৮ সালের শেষে ও ২০১৯ সালের শুরুর দিকে তারা কমপক্ষে ১৪০০ জুয়াচুরির ট্রিপ শনাক্ত করেছেন।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলছে, এমন ঘটনাও ঘটেছে যে বরখাস্ত হওয়া চালকও উবার অ্যাকাউন্ট খুলে যাত্রী পরিবহন করেছে।
তারা দেখেছেন যে শিশুদের অশোভন ছবির ব্যাপারে একজন চালকের লাইসেন্স বাতিল করার পরেও তিনি কাজ চালিয়ে গেছেন।
উবার বলছে, লাইসেন্স নবায়ন না করার এই সিদ্ধান্ত ভুল। কারণ গত কয়েক মাসে তারা তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং চালকদের মুখ দেখে চেনার জন্যে প্রযুক্তিগত কিছু ব্যবস্থাও চালু করতে যাচ্ছে।
তারা বলছে, গত দুমাসে তারা তাদের প্রত্যেক চালকের ব্যাপারে খতিয়ে দেখেছে।
পরিবহন বিশ্লেষকরা বলছেন, উবার যদি আপিলে হেরে যায় তার চালকরা অন্যান্য রাইড-শেয়ারিং কোম্পানিতে গিয়ে গাড়ি চালাবে।
প্রতিযোগিতার কারণে এই শূন্যতা খুব দ্রুত পূরণ হয়ে যাবে বলে মনে করেন একজন বিশ্লেষক ফিওনা সিনকোটা। বিবিসি বাংলা।
আপনার মন্তব্য