০৯ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১২:৪১
করোনাভাইরাসে চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১১ জনে। এতে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৩৭ হাজার ১৯৮ জন রোগী। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সবমিলিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮১৩ জনের।
এদিকে করোনাভাইরাসের বিস্তৃতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অভিমত দিলেও ২০০২-০৩ সালে ছড়িয়ে পড়া সার্স ভাইরাসে প্রাণহানির চেয়েও করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেশি। সার্স সংক্রমণে ৭৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। রোববার বার্তাসংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত চার দিনে হুবেই প্রদেশে করোনাভাইরাসের বিস্তৃতিতে 'কিছুটা স্থিতিশীলতা' এসেছে- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এমন অভিমত দেওয়ার পরই প্রাণ সংহারের দিক থেকে করোনাভাইরাসের সার্সকে ছাড়িয়ে যাওয়ার তথ্য সামনে এলো। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে দিয়ে এও বলেছে যে, আগাম ধারণা করার মতো পরিস্থিতি এখনও আসেনি এবং এই ভাইরাসে প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে।
চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন রোববার জানিয়েছে, দেশটিতে নতুন করে আরও ৮৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এতে এখন পর্যন্ত চীনে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১১ জনে। নতুন করে মারা যাওয়া ৮৯ জনের মধ্যে ৮১ জনই হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা।
জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন আরও জানিয়েছে, চীনে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে অন্তত ২ হাজার ৬৫৬ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। ফলে দেশটির মূল ভূখণ্ডে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ১৯৮ জন। এদিন চীনে প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল করোনাভাইরাসের উৎসস্থল উহানে এক মার্কিন ও এক জাপানি নাগরিক মারা গেছেন।
মানুষ থেকে মানুষে সহজেই সংক্রমণযোগ্য হওয়ায় বেশিরভাগ দেশ চীনের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। চীনফেরতদের জন্য সীমান্ত বন্ধ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ। জাপান ও হংকংয়ে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে দুটি প্রমোদতরীকে। এর যাত্রীদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে মূলভূমিতে ফিরতে দেয়া হচ্ছে না।
জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ডায়মন্ড প্রিন্সেসে এখন পর্যন্ত ৬৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। প্রমোদতরীটির ‘সন্দেহজনক’ ২৮০ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ৬৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি যাত্রী নিয়ে বন্দরের কাছে পানির ওপর ভাসছে জাহাজটি। এখন পর্যন্ত শুধু ভাইরাস আক্রান্তদের নামিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাহাজেই থাকবে হবে।
ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের আক্রান্তের অনেক ঘটনাই হয়তো সামনে আসছে না। এ কারণে এর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত শুক্রবার এক ব্রিটিশ বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, সরকারি তথ্য অনুযায়ী যে সংখ্যা জানানো হচ্ছে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা তার ১০ গুণ বেশি হতে পারে।
গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর চীনসহ অন্তত ২৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। চীনের সর্বত্র করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় উৎপত্তিস্থল উহান শহরসহ বেশিরভাগ এলাকা কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বেশিরভাগ সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে গণপরিবহনও। সংক্রমণ ঠেকাতে চীনের বিভিন্ন শহরেও নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। এ ছাড়া বেশ কিছু দেশ চীনের নাগরিক বা চীন থেকে আগত অন্য দেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের বিষয়ে তদন্ত করতে তারা চীনে একটি প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে। দলটির প্রধান সোমবারই চীনে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আপনার মন্তব্য