সিলেটটুডে ডেস্ক

১৩ অক্টোবর, ২০১৫ ২০:৩৬

‘জনস্বার্থে’ ওএসডি, ‘জনস্বার্থে’ বাতিল

‘জনস্বার্থে’ স্বাস্থ্য অধিদফতরে যে কর্মকর্তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হলো ২৪ ঘণ্টা না পেরুতেই সেই কর্মকর্তার ওএসডির আদেশ ‘জনস্বার্থে’ বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে।

সরকারি এই কর্মকর্তা হলেন মহাখালী রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মেডিকেল সোশ্যাল সায়েন্স বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এম মুশতাক হোসেইন।

মেডিকেল ভর্তিচ্ছুদের আন্দোলনে সংহতি জানানো চিকিৎসক-গবেষক মুহাম্মদ মুশতাক হোসেনকে ওএসডি করার পরদিনই সরকার ওই আদেশ বাতিল করেছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ডা. মুশতাকের ওএসডির আদেশ বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

জনস্বার্থের কথা বলা হলেও মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনকারি শিক্ষার্থীদের সভায় সংহতি প্রকাশ করায় ডা. মোশতাক হোসেইনকে ওএসডি করা হয়!

সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ওএসডির আদেশ স্বাভাবিক কার্যক্রম বলে পরিগণিত হলেও হঠাৎ করে ডা. মুশতাক হোসেইনের মতো সরকারি কর্মকর্তাকে ওএসডি করায় সমালোচনার ঝড় উঠে।

এরশাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা, ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মুশতাক রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) মেডিকেল সোসিওলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ তুলে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন চলছে, গত শুক্রবার তাতে সংহতি জানিয়েছিলেন দেশে চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির এই সদস্য।

এর তিন দিনের মাথায় সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক আদেশে ডা. মুশতাককে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠায়।

ওই আদেশে বলা হয়, “জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হল এবং অবিলম্বে কার্যকর হবে।”

মেডিকেলে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলে আসছেন, আন্দোলনকারীরা সরকারকে বেদায়দায় ফেলতে চাইছে।

কিন্তু দেশে চিকিৎসা গবেষণায় ডা. মুশতাকের ভূমিকা সম্পর্কে যারা যানেন, তাদের অনেকেই সরকারের সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

জানা যায়, গত শুক্রবার তিনি জাতীয় জাদুঘরের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। ওই সময় তিনি উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন প্রয়োজন মন্তব্য করেছিলেন। এতেই ক্ষিপ্ত হন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর মুশতাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। ডা. মুশতাক পরে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেন।

১৯৮১ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর মুশতাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন।

১৯৮৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ থেকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তখনকার জাসদ ছাত্রলীগের এই নেতা। ওই ডাকসুতে ভিপি ছিলেন ছাত্রলীগের সুলতান মো. মনসুর আহমেদ, এজিএস ছিলেন ছাত্র ইউনিয়েনের নাসিরউদ্দোজা।

ডা. মুশতাক পরে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার জন্য চাকরির আবেদন করেও দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তিনি বার বার প্রত্যাখ্যাত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সেই মুশতাকই জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও রোগের প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণে গঠিত জাতীয় ‘র‍্যাপিড রেসপন্স টিম’ এর ‘কোর গ্রুপ’ এর একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে কাজ করে আসছেন। ২০১৪ সাল থেকে তিনি কাজ করছেন দেশের পোলিও পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গঠিত জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য হিসেবে।

পোলিও ছাড়াও বাংলাদেশে নিপা, যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস ই, ব্রঙ্কিওলাইটিস ও ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব এবং রক্তশূন্যতা, শিশুদের অপুষ্টি এবং মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে তার কয়েক ডজন নিবন্ধ ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন জার্নালে। দেশের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন জরিপেও ডা. মুশতাক নেতৃত্ব দিয়েছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্কের (জিআইপিসিএন) এই সদস্য ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ন্যাশনাল পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউটেরও (আইএএনপিএইচআই) একজন ফেলো। কেমব্রিজ ফিলোসফিক্যাল সোসাইটির এই সাবেক সদস্য সরকারের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পাশাপাশি অধ্যাপনাও করেছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত