নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ জুন, ২০২৬ ০০:০০

জেলা প্রশাসনের এলআর ফান্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে যা বললেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আনতে সিলেটের সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম সারওয়ার আলমের উদ্যোগের পর ফের আলোচনায় এসেছে জেলা প্রশাসনের এল. আর (স্থানীয় রাজস্ব) ফান্ডের স্বচ্ছতার বিষয়টি।

এবার এ বিষয়ে কথা বলেছেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও। বুধবার সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কথা বলেন আরিফুল হক।

এল আর ফান্ড মূলত স্থানীয় পর্যায়ে আদায়কৃত রাজস্ব। স্থানীয় পর্যায়ে বেসরকারি চাঁদা বা অনুদানের অর্থে এলআর ফান্ড গঠিত। জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অধীনে এই তহবিল পরিচালিত হয়।

এই ফান্ডের স্বচ্ছতা, সঠিক ব্যবহার, অপব্যবহারের বিষয়টি নানা সময়েই আলোচনা হয়েছে। এই ফান্ড অডিটের আওতার বাইরে থেকে যায় বলেও আলোচনা রয়েছে। টিআইবিসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে থেকেই এলআর ফান্ডের স্বচ্ছতা আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন সময়।

সারওয়ার আলম শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয় ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়ার পর এই ফান্ডের বিষয়টি আবার সামনে আসে।

মাজারের জেলা প্রশাসনের দানবাক্স বসানোর আগে সারওয়ার আলম বলেছিলেন, মাজারে দান করা টাকা জনগণের টাকা। এই টাকার হিসেব জানার অধিকার জনগণের রয়েছে।

জেলা প্রশাসকের এমন বক্তব্যের পর ফেসবুকে অনেকেই মন্তব্য করেন, জেলা প্রশাসনের এলআর ফান্ডের টাকাও জনগণের দান করা টাকা। এই টাকার হিসেব জানার অধিকারও জনগণের রয়েছে।

এরপর জেলা প্রশাসনের এলআর ফান্ডের হিসেব দেওয়ার দাবি ওঠে সারওয়ার আলমের কাছে। তবে সারওয়ার আলম এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেননি। এলআর ফান্ডের হিসেব প্রকাশেরও কোন উদ্যোগ নেননি।

এ প্রসঙ্গে বুধবার সিলেটে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন জেলা প্রশাসনের এলআর ফান্ডের স্বচ্ছতা আনার কোন উদ্যোগ নেওয়া হবে কী না?

জবাবে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, এটা দীর্ঘদিনের প্র্যাকটিস। এটি আমাদের নজরে আছে। তবে যা করার আলোচনার মাধ্যমে করতে হবে। পরিবর্তনের করতে হলে সময় দিতে হবে। হুট করে কিছু করা যাবে না।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ৩টি ডেগে সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। একইসাথে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারে দানবাক্স বসানো হয়েছে। মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার কথা বলে ডেগ সিলাগালা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিজস্ব দানবাক্স স্থাপন করা হয়।

তবে এ নিয়ে মাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানান। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে রোববার জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তার এই হঠাৎ প্রত্যাহার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষোভ জানিয়ে রবি ও সোমবার সিলেটে বিক্ষোভ করা হয়।

সিলেট ছাড়ার আগে সোমবার তড়িঘড়ি করে তিনি মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগ নেন। সোমবার ইতিহাসের প্রথমবারের মতো শাহজালাল (রহ.) মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনা হয়। এতে চারদিনে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা পাওয়া যায়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত